নিউজ ডেস্ক: সোমবার রাতে আকস্মিক গুলির শব্দে কেঁপে উঠল গুয়াহাটির প্রাণকেন্দ্র জিএস রোড। বোরা সার্ভিস এলাকার একটি হোটেলে সম্পত্তি সংক্রান্ত পুরোনো দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গড়াল চরম রক্তক্ষয়ে। লিজ চুক্তি নিয়ে বিবাদের জেরে বেপরোয়া গুলিবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন হোটেল মালিকের পরিবারের চার সদস্য সহ মোট পাঁচ জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও এক ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত ন’টা নাগাদ বোরা সার্ভিসের কাছে অবস্থিত ‘হোটেল বিলাস ইন’-এ এই ঘটনা ঘটে। হোটেলটির মালিকপক্ষ এবং সেটি লিজে নেওয়া ব্যক্তির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা ও মতবিরোধ চলছিল। সেই টানাপোড়েন মেটাতে সোমবার রাতে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। কিন্তু কথা কাটাকাটির মাঝেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
https://x.com/NewsNltv/status/2114967286549561603?s=20
অভিযোগ, ক্ষোভের মাথায় লিজগ্রহীতা ঘনকান্ত গগৈ নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২ বোরের পিস্তল বের করে মালিকপক্ষের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন।
গুলির শব্দে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো চত্বরে। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ছ’জন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা চার জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে আরও এক জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ-এ। বাকি এক আহত ব্যক্তি, যিনি নিহতদের একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে, তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে চার জন হোটেল মালিকের পরিবারের সদস্য এবং পঞ্চম ব্যক্তিও তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে আটক করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে এবং ঠিক কী কারণে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
ব্যবসায়িক বা ভূসম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণহানির ঘটনা দেশে নতুন নয়। জমিজমা, পারিবারিক সম্পত্তি বা চুক্তির টানাপোড়েন যে কতটা মর্মান্তিক রূপ নিতে পারে, গুয়াহাটির হত্যাকাণ্ড তারই এক নিষ্ঠুর নজির।




