স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেটের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বাড়িতে পাখার সামনে দাঁড়াতে হবে! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও নিউজিল্যান্ড সফরের আগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের এমনই পরামর্শ দিয়েছেন দলের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তবে পাখার হাওয়া খেয়ে আরাম করার জন্য নয়, ওয়েলিংটনের প্রবল বাতাসের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আসন্ন টেস্ট সিরিজের কথা মাথায় রেখে ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য এই অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন পেসার। তাঁর মতে, ওয়েলিংটনের প্রবল হাওয়ার মোকাবিলা করতে গেলে শুধু শারীরিক প্রস্তুতি নয়, মানসিক প্রস্তুতিও অত্যন্ত জরুরি।
ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ ক্রিকেট মাঠের পরিচিতি ‘উইন্ডি ওয়েলিংটন’ নামে। সেখানে বাতাসের গতিবেগ কখনও ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। মাঠের চারপাশ খোলা থাকায় হাওয়ার গতিপথ এবং দিক দ্রুত বদলে যায়। ফলে ব্যাটারদের পক্ষে ক্রিজে ভারসাম্য ধরে রাখা যেমন কঠিন, তেমনই বোলারদেরও বল করার সময় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বল ছাড়ার মুহূর্তে শরীরের ভারসাম্য, বোলিংয়ের লাইন ও লেংথ এবং ইয়র্কার কিংবা স্লোয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাতাস বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় দলের যে ক্রিকেটারেরা এখনও নিউজিল্যান্ডে পৌঁছাননি, তাঁদের উদ্দেশে মর্কেল বলেছেন, ‘বাড়িতে একটা শক্তিশালী পাখা জোগাড় করো। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকো। সেটাই তোমাদের প্রস্তুতি।’ ভারতীয় দলের এই বোলিং কোচ জানিয়েছেন, ওয়েলিংটনের পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে। এই প্রাক্তন পেসার বলেছেন, ‘এই বাতাস অন্য রকম। আজ সকালে হোটেলে ছিলাম। গোটা বাড়িটাই যেন কাঁপছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ক্রিকেটারদের এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত করানো এবং মানিয়ে নেওয়া আমাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ।’
মর্কেল আরও জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, প্রবল বাতাসকে অজুহাত হিসাবে দেখলে চলবে না। বরং চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেছেন, ‘দু’-তিন কিংবা চার দিনের মধ্যে এই পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। আসল বিষয় হল, তুমি পরিস্থিতিটাকে কী ভাবে দেখছ। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নেবে, না কি নেতিবাচক ভাবে দেখবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার মিচেল ব্রেসওয়েলও ওয়েলিংটনের বাতাসের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, ‘বাতাস মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। ফলে নির্দিষ্ট একটি দিককে সব সময় নিরাপদ বলে ধরে নেওয়া যায় না। ব্যাটারদের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে, আর বোলারদেরও বাতাসের গতিপথ অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে হবে।’’ ভারতীয় দল আপাতত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যস্ত। কিন্তু মর্কেল ও কোচ গৌতম গম্ভীরের নজর নভেম্বরের টেস্ট সিরিজের দিকেও রয়েছে। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৯ নভেম্বর। তার আগে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বোলারদের প্রস্তুত করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য।




