নিউজ ডেস্ক : একের পর এক প্রশ্ন, একাধিক অভিযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, সব মিলিয়ে নজর ছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। মঙ্গলবার শুনানিতে কোন পথে এগোবে এই আইনি লড়াই, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল কৌতুহল। তবে আপাতত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোলো না মামলা। বরং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আরও সময় পেল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি। ফলে নতুন করে নজর পড়েছে আগামী শুনানির দিনের দিকে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের মামলায় আপাতত স্বস্তি পেল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর বা ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা গুলির শুনানি মঙ্গলবার স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছেন, আগামী ১৭ নভেম্বর ফের এই মামলাগুলির শুনানি হবে।
জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি এবং এসআইআর সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সেই মামলাগুলি একত্রিত করে শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে রাহুল গান্ধীর আবেদনসহ বিভিন্ন অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। তবে, শুনানির স্থগিত হওয়াকে মামলার নিষ্পত্তি বা অভিযোগ খারিজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এর আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয়। কমিশনের বক্তব্য, অভিযোগ গুলি একটি সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে আনা হয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতামত, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হয়। নির্বাচন কমিশনারদেরও মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছে কমিশন।
অন্যদিকে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে শুনানিতে। এই ফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়। আবেদনকারীদের তরফে সওয়াল চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে তাঁদের সময় প্রয়োজন। এরপর হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য কমিশনকে দু সপ্তাহ সময় দেয় আদালত।
কমিশনের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশের ফলে ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অতিরিক্ত ঘটনাটি ছিল পৃথক। তবে অনলাইনে সেটি যেভাবে দেখানো হয়েছিল, তাতে ফর্মে সংশোধন আনা হয়েছিল বলে মনে হতে পারে, এই বিষয়টিও স্বীকার করেছেন কমিশন। এখন, আগামী ১৭ নভেম্বর শুনানির দিকে নজর।




