নিউজ ডেস্ক: মাসিকের দিনগুলিতে শারীরিক যন্ত্রণা ও মেজাজের ওঠানামা অধিকাংশ নারীর জীবনেরই এক চেনা বাস্তবতা। তবে বিষয়টি নিয়ে আজও সমাজে অস্বস্তি বা সংকোচ পুরোপুরি কাটেনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই স্বাভাবিক জৈবিক বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা। পিরিয়ডের আগের ও পরের সময়টায় স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা কীভাবে তাঁর পাশে থাকেন এবং মানসিক ভরসা জোগান, তা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশ্মিকা জানান, পিরিয়ড শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই যখন তিনি অকারণ মনখারাপ বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তখন নিজেই বিষয়টি বিজয়কে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। রশ্মিকার কথায়, “পুরুষ হিসেবে ওর তো জরায়ু টেনে বের করে নেওয়ার উপায় নেই! কিন্তু এই সময় ও যে আমার পাশে আছে, সেটাই অনেক বড় স্বস্তি।” তিনি আরও জানান, বিজয় তাঁর পেটে হালকা হাত বুলিয়ে দেন, হাত-পা টিপে দেন এবং যথাসম্ভব আরাম দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিনেত্রীর এই স্বীকারোক্তি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে সঙ্গীর এমন ছোটখাটো সেবা বা স্পর্শ কি সত্যি ঋতুস্রাবের কষ্ট লাঘব করতে পারে?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, পারে। তবে তার ধরণ ও প্রভাবের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। স্ত্রীরোগ ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ড. অর্চনা ধাওয়ান বাজাজ জানাচ্ছেন, তলপেটে হালকা ম্যাসাজ জরায়ুর পেশির খিঁচুনি ও অস্বস্তি কমাতে বেশ কার্যকর। তবে হাত বা পা টিপে দিলে সরাসরি ঋতুস্রাবের ব্যথা হয়তো কমে না, কিন্তু তা শরীরকে শিথিল করে, মানসিক চাপ দূর করে এবং মনে স্বস্তির অনুভূতি এনে দেয়। ড. বাজাজের পরামর্শ, ম্যাসাজ সবসময় খুব আলতো হাতে হওয়া উচিত,যদি তা ব্যথা বাড়ায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি গরম জলের সেঁক, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং হালকা স্ট্রেচিংয়ের ওপরও জোর দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ঋতুস্রাবের আগে শরীরে হরমোনের তীব্র ওঠানামার কারণে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেটে ফোলাভাব এবং খিটখিটে মেজাজ বা বিষণ্ণতার মতো প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম দেখা দেয়। তবে এ নিয়ে সঙ্গীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
ড. বাজাজ সতর্ক করে বলেছেন, সব নারীর অভিজ্ঞতা এক নয়, তাই পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের কেবল ‘মুডি’ বা খামখেয়ালি বলে দাগিয়ে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
কোনো কিছু আন্দাজ না করে, সঙ্গীর উচিত সরাসরি জানতে চাওয়া যে এই সময়ে তাঁর কী প্রয়োজন একটু নীরবতা, ঘরের কাজে সাহায্য, নাকি কেবল সান্ত্বনাদায়ী স্পর্শ। তবে বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সতর্কতা, সঙ্গীর সহানুভূতি মানসিক জোর দেয় ঠিকই, কিন্তু ব্যথা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, তবে তাকে স্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল। এন্ডোমেট্রিওসিস বা ফাইব্রয়েডের মতো জটিলতা এড়াতে সময়মতো চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়াই উচিত।




