নিজস্ব প্রতিবেদন: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ক্যাবিনেট সচিব টি. ভি. সোমনাথনের নেতৃত্বে জাতীয় সংকট মোকাবিলা কমিটির (NCMC) বৈঠকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। লক্ষ্য একটাই, প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনা এবং সম্পত্তি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানো।
২৮ অক্টোবর উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে।
আশ্রয়শিবির তৈরি, উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত
কেন্দ্রের পর্যালোচনা বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলঙ্গানা, ছত্তীসগঢ় এবং পুদুচেরির প্রশাসনিক আধিকারিকেরা নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানান। বিপজ্জনক এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত আশ্রয়শিবির ও প্রয়োজনে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এনডিআরএফ (NDRF) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (SDRF) দলগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বিভিন্ন জেলায় চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য সেনা, নৌসেনা, বায়ুসেনা এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর দল, জাহাজ ও বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী ইতিমধ্যেই একাধিক জাহাজ ও নৌকাকে নিরাপদ জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
সতর্কতা জারি মৎস্যজীবীদের জন্য
২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও ইয়ানাম উপকূলের সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু উপকূলীয় রাজ্য নয়, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারকেও সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (NDMA) এবং IMD পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হলে দ্রুত তা পুনরুদ্ধারের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা বদলাতে পারে। তাই পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিন এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




