নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ক্রমশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সোমবার, ২৬ অক্টোবর ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) সর্বশেষ পূর্বাভাসে ঝড়ের গতিপথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোলেও, পরবর্তী সময়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে মোড় নিতে পারে অর্ণব। ফলে কোন উপকূলে আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়, তা নিয়ে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে এখনও পর্যন্ত পূর্বাভাসে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলেই স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
কোথায় রয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব?
IMD-র ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের বুলেটিন অনুযায়ী, অর্ণব পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল। গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে এগিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। এরপর পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতের মধ্যে এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড় এবং ২৭ অক্টোবরের মধ্যে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
কবে, কোথায় আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে অর্ণব। সেই সময় ঝড়ের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও উপকূলীয় এলাকাগুলিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরবর্তী বুলেটিনে ঝড়ের অবস্থান ও সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের জায়গার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
বাংলায় কি পড়বে প্রভাব?
অর্ণব সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস না থাকলেও, এর প্রভাবে রাজ্যের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোনও কোনও এলাকায় ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এখন কী বলছে আবহাওয়া দফতর?
এই মুহূর্তে অর্ণবের গতিপথ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঝড়টি কখন এবং কতটা উত্তরমুখী হবে। আপাতত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকেই এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই গুজবের উপর নির্ভর না করে IMD-র পরবর্তী সরকারি বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।




