নিউজ ডেস্ক: দলের অন্দরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ হোক কিংবা বিরোধী শিবিরের আক্রমণ একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে একযোগে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিমের সাম্প্রতিক মন্তব্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং বিজেপির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
ফিরহাদ হাকিমের 'ভক্তের চেয়ে রক্তকে বেশি প্রাধান্য' দেওয়ার অভিযোগকে সরাসরি খণ্ডন করেন কুণাল। কড়া ভাষায় তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল নেত্রী ফিরহাদকে কী দেননি! ২০১১ সালে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে দীর্ঘদিনের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রাম পেয়ারি রামের মতো হেভিওয়েটকে সরিয়ে ববি হাকিমকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর কাউন্সিলর, মেয়র পরিষদ, মেয়র এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী প্রথমবার বিধায়ক হয়েই একের পর এক গুরুদায়িত্ব তিনি সামলেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরকারি পর্ষদ, সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। কুণালের প্রশ্ন, দল ও সরকারের সব সুবিধা ভোগ করার পর আজ হঠাৎ কেন এই 'রক্ত বনাম ভক্তের' তত্ত্ব তোলা হচ্ছে? এর পেছনে পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে আনার কোনো অভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়া এবং কাউন্সিলরদের পাশে থাকার দাবি নিয়েও সরব হন কুণাল ঘোষ। সুদীপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েই অতীতে তাপস রায়ের মতো প্রবীণ নেতা দল ছেড়েছিলেন। কুণাল উল্লেখ করেন, তাপস রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে অতীতে তাঁকেও দলীয় শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই এই পরিস্থিতিতে তাপস রায় কিংবা সজল ঘোষদের মনোভাব কী, তা তাঁরাই স্পষ্ট করবেন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। সুদীপের দলবদলু রাজনীতির প্রবণতা ও বিজেপির সঙ্গে সমীকরণকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যাঁদের ভরসায় তৃণমূলের প্রবীণ নেতারা দলত্যাগ করেছিলেন, তাঁদের অবস্থান আজ প্রশ্নের মুখে।
বিজেপিকে বিঁধে তিনি জানান, সুকান্ত মজুমদার বা শমীক ভট্টাচার্যরা প্রকাশ্যে তৃণমূলের নেতাদের না নেওয়ার কথা বললেও ভেতরে ভেতরে উল্টো পথেই হাঁটছেন। বিজেপির নিজের কোনো শক্ত জমি বা যোগ্য প্রার্থী নেই, ফলে দলছুটদের ওপর নির্ভর করাই তাদের কৌশল। তবে হলদিয়ায় 'বিরোধী শূন্য' করার ডাক নিয়ে আত্মসমালোচনার সুরও শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি মেনে নেন, বিরোধীমুক্ত করার মানসিকতা ক্ষতিকর এবং স্থানীয় ক্ষেত্রে দলেরও গাফিলতি ছিল।
রাজনীতির বাইরে সরশুনায় এক তরুণ ও তাঁর বাবার ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একে কোনো রাজনৈতিক রং না দিয়ে একটি জঘন্য সামাজিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন তৃণমূলের এই নেতা।




