নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে তৈরি একটি ইউটিউব ভিডিয়ো ঘিরে আইনি বিতর্ক। ভিডিয়োটিতে আদানি গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক কার্যকলাপ, সরকারি নীতি এবং বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল আদানি শিল্পগোষ্ঠী। সোমবার মামলার শুনানিতে বিতর্কিত ভিডিয়োটি আপাতত দেখানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউটিউবারকে হলফনামা দিয়ে নিজের বক্তব্য জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগ, সম্প্রতি এক ইউটিউবার গৌতম আদানিকে নিয়ে একটি ভিডিয়ো তৈরি করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আদানির সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
ভিডিয়োটিতে গুজরাতের মুন্দ্রায় জমি বরাদ্দ এবং কয়লা নিলামে আদানি গোষ্ঠী কোনও বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। আদানি গোষ্ঠীর বক্তব্য, এই ধরনের দাবি তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। সেই কারণেই ভিডিয়োটির প্রচার বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।
৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি
এই ঘটনায় মানহানির মামলা দায়ের করেছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থাটির তরফে ভিডিয়োটির প্রচারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি আর্য দত্তের এজলাসে মামলাটি ওঠে। প্রথমে মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়, তার পরেই শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিতর্কিত ভিডিয়োটি আপাতত দেখানো যাবে না বলে নির্দেশ দেয় আদালত। তবে আদালতের লিখিত নির্দেশ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ইউটিউবারকে হলফনামা জমার নির্দেশ
আদালত সংশ্লিষ্ট ইউটিউবারকে হলফনামা দিয়ে তাঁর বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদানি গোষ্ঠীও পাল্টা হলফনামা জমা দিতে পারবে।
এই মামলায় মূল বিতর্ক হল, ভিডিয়োটিতে করা বক্তব্যগুলি মানহানিকর কি না এবং সেগুলির প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন কি না। একদিকে আদানি গোষ্ঠী তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে মামলার পরবর্তী শুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও গৌতম আদানির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়। তবে এই নির্দিষ্ট ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং মানহানির প্রশ্নের নিষ্পত্তি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। আপাতত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর ভিডিয়োটির প্রচার নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।




