নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা, হাওড়া-সহ পশ্চিমবঙ্গের কোনও পুরসভায় নির্বাচন করা উচিত নয়। এই দাবিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলির একাংশ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং তৃণমূলের দমদমের সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকারও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আসন্ন পুরভোটে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তকে পাঠানো চিঠিতে মূলত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরনিগম, হাওড়া পুরনিগম এবং রাজ্যের অন্যান্য পুরসভায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হোক।
কেন পুরভোট পিছিয়ে দেওয়ার দাবি?
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করার জন্য গত ১ অক্টোবর থেকে বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারিকে যোগ্যতা নির্ধারণের তারিখ ধরে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা SSR-এর প্রক্রিয়াও চলছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই পুরভোট আয়োজন করা উচিত, যাতে যোগ্য ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।
কলকাতা-হাওড়ার প্রায় ১.৬ লক্ষ আবেদনকারীকে নিয়ে উদ্বেগ
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরনিগম এলাকার প্রায় ১.২ লক্ষ এবং হাওড়া পুরনিগম এলাকার প্রায় ৩৯ হাজার আবেদনকারীর SIR-সংক্রান্ত আপিল এখনও বিচারাধীন।
অর্থাৎ, দুই পুর এলাকা মিলিয়ে প্রায় ১.৬ লক্ষ আবেদনকারীর ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাক্ষরকারীদের দাবি, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলির মধ্যে কলকাতা জেলায় ১০০ শতাংশ এবং হাওড়ায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই বিচারাধীন আবেদনকারীদের নাম পুরভোটের তালিকার বাইরে রাখা হলে তাঁরা ফের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে সংবিধানের ২৪৩-জেডএ অনুচ্ছেদ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন, ১৯৯৪-এর পাঁচ নম্বর ধারার উল্লেখ করে কমিশনের ক্ষমতা প্রয়োগের আর্জি জানানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারী সকলের নাম পুরভোটের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তোলা হয়েছে।
কংগ্রেস-তৃণমূল কি কাছাকাছি আসছে?
এই চিঠি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে। শুভঙ্কর সরকারকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিজেপিকে দুর্নীতিপরায়ণ বলে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি, বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা বিবেচনা করার ইঙ্গিতও দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে, ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিরোধীদের INDIA জোট। ১ নভেম্বর দিল্লির সমাবেশেও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে একই চিঠিতে স্বাক্ষর করা বা একই দাবিতে সরব হওয়া মানেই আসন্ন পুরভোটে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে জোট চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। আপাতত ভোটার তালিকা সংশোধন শেষ করার দাবি সামনে এসেছে। পুরভোটের দিনক্ষণ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, এখন সেদিকেই নজর।




