নিউজ ডেস্ক: হোটেলের ঘরে ঢোকার মুহূর্তে আচমকা পিছন দিক থেকে পড়ে গলেন তরুণী। মাথা ঠুকে যায় মাটিতে। সঙ্গে থাকা স্বামী তাঁকে তুলে ঘরের ভিতরে নিয়ে গেলেন। হোটেলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এমনই একটি দৃশ্য। তার পরের দিনই মৃত্যু হল ২৮ বছরের মুস্কান সিমোলিয়ার। এই ঘটনাকে ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে। মুস্কানের বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বাসিন্দা নিলেশ পেশায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মুস্কানের। শুক্রবার রাতে ঝাঁসির সিপরি বাজার থানা এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা। পরদিন সকালে অসুস্থ অবস্থায় মুস্কানকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
https://www.instagram.com/reel/De8eqg3yv0v/?utm_source=ig_web_copy_link&rpxt=NTc4MTIwNjQ2YQ==
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঝাঁসির সিটি পুলিশ সুপার প্রীতি সিং জানিয়েছেন, ফুটেজে মুস্কানকে হোটেলের ঘরে ঢোকার পর আচমকা পড়ে যেতে দেখা গিয়েছে। সেই সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী এবং আরও এক কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নিলেশের দাবি, হোটেল ছাড়ার প্রস্তুতি চলাকালীন পড়ে যান মুস্কান। পরে হোটেলের কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
তবে আচমকা মুস্কানের পড়ে যাওয়ার ঘটনা স্পষ্ট নয়। ফুটেজে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়লেও, তা থেকে মৃত্যুর কারণ বা কোনও শারীরিক আঘাতের পিছনে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা এখনও জানা যায়নি। মুস্কানের বাবার দাবি, মেয়ের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, মুস্কানের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মুস্কানের বাবার আরও অভিযোগ নিলেশের সঙ্গে মুস্কানের বিয়ের আগে নিলেশের আগে বিয়ে হয়েছিল। তাঁর প্রথম স্ত্রী ইন্দোরে থাকেন। এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলে দাবি করেছেন তিনি।
নিলেশকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে চালাচ্ছে পুলিশ । ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আপাতত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে খুন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।




