নিউজ ডেস্ক: বাজারের ব্যস্ততার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং প্রভাবশালীদের দাপট, এই বিষয়গুলি ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ব্যবসা করতে গিয়ে কোনও রকম চাপের মুখে পড়তে হবে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উৎসবের আবহে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই বিষয়গুলি সামনে রেখে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার তারাতলা রোডের বেসব্রিজ সংলগ্ন হেমন্ত বসু বাজার কল্যাণ সমিতির লক্ষ্মী পূজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, ব্যবসা করতে গিয়ে কোনও রকমের অন্যায় বা জুলুম মেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন কিংবা চোখ রাঙান তাহলে চুপ করে থাকা চলবে না। সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে। তাঁর কথায়, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হুমকির মুখে পড়ে ব্যবসায়ীরা যাতে নিজেদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য না হন। অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে ভয় না পাওয়ার বার্তা দেন তিনি।
একইসঙ্গে, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের দাপট নিয়েও কড়া অবস্থান জানান মুখ্যমন্ত্রী। ব্যবসার কাজে বাধা সৃষ্টি করা, জোর করে টাকা দাবি করা কিংবা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত করা, এ ধরনের প্রবণতা বরদাস্ত করা হবে না বলে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা উঠে আসে। ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যবসা চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। পূর্ববর্তী শাসনকালের সমালোচনা করে তিনি বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। উৎসবের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বার্তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে কতটা দ্রুত সুরাহা পান, তা শেষ পর্যন্ত এই আশ্বাসের সাফল্য নির্ধারণ করবে।




