নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এবার এই ইস্যুতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে নিজেদের মন্তব্যের মাধ্যমেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক ক্ষতি করছেন। পাশাপাশি খাড়গেকে অবসর নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
কী বলেছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে?
বিতর্কের সূত্রপাত বিহারের পাটনায় একটি অনুষ্ঠানে। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সময় দর্শকদের মধ্যে থেকে একজন মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না। এর জবাবে খাড়গে বলেন, “মোদীর বাপও যাবে।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি নেতারা প্রতিবাদে সরব হন। খাড়গের বক্তব্যকে রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করে তাঁর নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় বিজেপি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের বক্তব্য, মন্তব্যটি কথার প্রচলিত প্রয়োগের অংশ ছিল, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বলা হয়নি।
খাড়গেকে অবসরের পরামর্শ দিলীপের
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, খাড়গে নিজেই তাঁর বয়সের কথা বলেছেন এবং অবসর নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বয়স ও হতাশার কারণেই কংগ্রেস সভাপতি এমন মন্তব্য করছেন। পাশাপাশি কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের দাবি, রাহুল গান্ধী ও খাড়গে মিলেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক ক্ষতি করছেন। রাহুলের বিদেশ সফর প্রসঙ্গেও তাঁকে আক্রমণ করে দিলীপ বলেন, কোনও মন্তব্য করার আগে তাঁর দেশে ফেরা উচিত। তাঁর কথায়, মানুষ রাহুল গান্ধীকেই খুঁজে পাচ্ছে না।
অমিত শাহেরও কড়া প্রতিক্রিয়া
এই বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সামাজিক মাধ্যমে তিনি খাড়গের মন্তব্যের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনী ব্যর্থতার কারণে কংগ্রেসের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং সেই কারণেই দলটি ব্যক্তিগত আক্রমণের পথে হাঁটছে।
তবে কংগ্রেস এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে মোদীর বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্য ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এখন এই বিতর্কে কংগ্রেস নেতৃত্বের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




