কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এ ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নয়া বিতর্ক। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উপাচার্যকে হেনস্থা, প্রশাসনিক দফতরে ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর স্লোগান লেখার মতো একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার আঠারো পাতার রিপোর্ট দিল অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি।
সম্প্রতি, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছাত্রদের বক্তব্য, ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই তাঁদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয় এবং প্রতিবাদ চলাকালীন ছাত্রদের উপরেও হামলা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অনুমতি নিয়ে অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন বিক্ষোভকারী ছাত্ররা সেখানে প্রবেশ করেন এবং তার পরেই সংঘাত বাধে। ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং রাজ্য সরকার তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপাচার্যের দফতর ঘেরাও ও ভাঙচুরের অভিযোগ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। উপাচার্যের দফতরে ঢুকে চলে অবস্থান। ফলে উপাচার্যের চেয়ার-সহ দফতরের বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিষ্ঠানের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতির ফ্রেম ভাঙার অভিযোগও রিপোর্টে রয়েছে।
শুধু ভাঙচুর নয়, উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দফতরে ভাঙচুরের প্রতিবাদে আধিকারিকদের একটি বৈঠকের পর উপাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই সময় এক ছাত্র তাঁকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ। ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও সামনে আসেনি।
ইতিমধ্যে ছয় পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পড়ুয়াদের হস্টেল ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইনস্টিটিউটের এই সাসপেন্ডের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।




