কলকাতা: বিজয়ার সৌজন্য বিনিময়, পায়ে হাত দিয়ে প্রণামের চেষ্টা, তারপর কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা। নিউ আলিপুরের একটি ক্যাফেতে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বরূপ বিশ্বাসের সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সামনে পুরভোট। তার আগে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের পরিচিত মুখের এমন সাক্ষাৎ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে যাবতীয় জল্পনার মধ্যেই মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুমনের বক্তব্য, পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হলেই তার মধ্যে রাজনীতির রং খোঁজা উচিত নয়। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা আর রাজনৈতিক বিরোধিতা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। দুইয়ের মধ্যে অকারণে যোগসূত্র খোঁজার কোনও মানে নেই।
সাক্ষাৎ নিয়ে সুমন বলেন, “যখন দু’টো মানুষের দেখা হয়, তখন কেন রাজনীতিকে টেনে আনতে হবে?” তাঁর প্রশ্ন, স্বরূপ বিশ্বাসের পরিবর্তে যদি অন্য কোনও পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হত, তা হলেও কি একইভাবে আলোচনা শুরু হত? তাঁর দাবি, অন্য কারও সঙ্গে দেখা হলে বিষয়টিকে সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই দেখা হত।
স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেছেন সুমন। তিনি জানান, স্বরূপ দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্রে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত পরিচিতি একেবারে মুছে যায় না বলেই তাঁর বক্তব্য।
সুমনের কথায়, স্বরূপের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধিতা ছিল, এখনও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে সেই বিরোধিতার বাইরে পরিচিতির জায়গাটি আলাদা। বিজয়ার পর দেখা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সৌজন্য বিনিময় হয়েছে।
ক্যাফেতে তাঁদের কথোপকথনের একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে সুমনকে স্বরূপের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এরপর দু’জনকে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা যায়। পাশাপাশি, খাওয়াদাওয়া নিয়ে তাঁদের কথাও হয়। সুমনের দাবি, স্বরূপ তাঁকে কিছু খেতে চেয়েছিলেন কি না জানতে চান। তিনি প্রথমে রাজি না হলেও স্বরূপ অন্তত এক কাপ কফি খাওয়ার কথা বলেন।
তবে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই। পুরভোটের আগে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নিছক ব্যক্তিগত পরিচিতির প্রকাশ, নাকি এর অন্য কোনও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, সেই প্রশ্নই ঘুরছে বিভিন্ন মহলে। যদিও সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও সৌজন্য বজায় রাখার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই।




