নিউজ ডেস্ক: ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার জেরে এক শিশুর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর। চিকিৎসার চরম গাফিলতির কারণেই সন্তানের প্রাণ গিয়েছে এই দাবিতে হাসপাতাল চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। চোখের সামনে ফুটফুটে সন্তানের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না শোকস্তব্ধ পরিজনেরা। কান্নার রোল মুহূর্তেই রূপ নেয় তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বউবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বেঁধে যায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন শিশুর মৃত্যুর খবর বাইরে আসতেই পরিবারের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসাকর্মীদের মারাত্মক ভুলে ভুল ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়েছিল, যার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।
হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন গাফিলতি কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভকারীরা চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে বউবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে ক্ষোভে ফুটতে থাকা পরিজনদের শান্ত করতে গিয়ে পুলিশকে দফায় দফায় বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ৩ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুর মৃত্যুর আসল কারণ ঠিক কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ খতিয়ে দেখার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে ভুল ইঞ্জেকশনের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কি না। তবে এই গোটা বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি মেলেনি।
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে ভুল ইঞ্জেকশন কিংবা চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে বীরভূমের রামপুরহাটে এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেখানেও অভিযোগ উঠেছিল, ভুল ইঞ্জেকশন প্রয়োগের কারণে প্রাণ হারাতে হয় ১১ বছরের এক স্কুলপড়ুয়াকে। ঠিক তার পরের মাসেই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেও একই ধরনের শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।




