কলকাতা: আসল তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি, তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার আগেই তাঁদের নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁর অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। দুই শিবিরের এই চাপানউতোরে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
নথি নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা, কী অভিযোগ ঋতব্রতর?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য তাঁদের শিবিরের প্রয়োজনীয় নথি সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় মাঝপথে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কর্মীরা সাহসিকতার সঙ্গে সেই চেষ্টা প্রতিহত করেন। তবে এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
https://x.com/RitabrataBanerj/status/2114485816605151398?s=20
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরে ঋতব্রত দাবি করেন, ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় কালীঘাটের মমতা-পন্থী তৃণমূলের নথি চার্টার্ড বিমানে করে পাঠানো হয়েছে। অথচ তাঁদের শিবিরের নথি নিয়ে কর্মীদের সড়কপথে যেতে হচ্ছে। এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এভাবে তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
‘হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে’, পাল্টা কুণাল
ঋতব্রতর অভিযোগ সামনে আসতেই পাল্টা আক্রমণ করেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। গোটা ঘটনাকে গল্প বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
কুণালের আরও দাবি, ঋতব্রতর শিবিরে বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সদস্য-সমর্থকদের দিয়ে ফর্ম পূরণ করানো এবং পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে সমর্থন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ঋতব্রতর অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কুণাল বলেন, তৃণমূল নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে—এমন কথা শুনলে হাসি পাবে।
৩০ অক্টোবর কমিশনে মুখোমুখি দুই শিবির
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার। ২৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার শেষ দিন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর দুই শিবিরের বক্তব্য শুনবে কমিশন। তার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ঋতব্রতর শিবিরের নেতা কোহিনূর মজুমদারও অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সংগঠনের নথি সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কর্মীরা হলফনামা সংগ্রহ করে কমিশনে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই এখন আরও জটিল। তবে শেষ পর্যন্ত কারা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার পাবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর।




