নিউজ ডেস্ক: দোকানের সামনে বসে গল্প করছিলেন চারজন। আচমকাই সেখানে এসে থামল একটি কালো রঙের স্করপিও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের লক্ষ্য করে চলল এলোপাথাড়ি গুলি। পরপর প্রায় ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলির শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন চারজন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় দুই ভাইয়ের। রবিবার রাতে পাঞ্জাবের মোগা শহরের অঙ্গদপুরা এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটমুখী রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
কালো স্করপিও থেকে গুলিবৃষ্টি, তারপর উধাও দুষ্কৃতীরা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটি দোকানের সামনে বসেছিলেন চারজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই। সেই সময় আচমকাই সেখানে পৌঁছয় একটি কালো রঙের স্করপিও এসইউভি। এরপর গাড়ির ভিতর থেকেই চারজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
প্রায় ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি চালানোর পর দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা গাড়ি থেকে নামেনি। ফলে তাদের মুখ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পরেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে মৃত্যু দুই ভাইয়ের, আহত আরও দু’জন
গুলিতে গুরুতর আহত চারজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গগন জিন্দাল ও সাহিল জিন্দালের। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ৩০ ও ৪০ বছর। তাঁরা একই পরিবারের দুই ভাই।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গগনের মাথায় এবং সাহিলের পেটে গুলি লাগে। আহত বাকি দু’জনেরও পেট ও হাতে গুলির আঘাত রয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
পারিবারিক শত্রুতা, নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?
এই হামলার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং পুরনো পারিবারিক শত্রুতার সম্ভাবনা সামনে এসেছে। মৃতদের পরিবারের তরফেও কয়েকজন সন্দেহভাজনের নাম জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়।
নিরাপত্তা নিয়ে আপ সরকারকে নিশানা বিরোধীদের
প্রকাশ্যে দোকানের সামনে এমন হামলার ঘটনায় পাঞ্জাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দল রাজ্যের আম আদমি পার্টি সরকারকে নিশানা করেছে। তাদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কতটা সফল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
সব মিলিয়ে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই গুলিচালনার ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। এখন পুলিশের তদন্তে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার নেপথ্যের কারণ সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।




