নিউজ ডেস্ক: অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেই জবাব দিচ্ছেন হরমনপ্রীত কৌর। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুরন্ত শতরান করে একাধিক নজির গড়লেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাঁর ১২৬ রানের ইনিংসে ভর করে বড় রান করল ভারত। সেই সঙ্গে মহিলাদের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক শতরানের তালিকায় প্রাক্তন অধিনায়ক মিতালি রাজকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন হরমনপ্রীত। তাঁর সামনে এখন শুধু বর্তমান ভারতীয় অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা।
রবিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। ইনিংসের শুরুতেই ফিরে যান স্মৃতি মান্ধানা এবং শেফালি বর্মা। মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। এমন পরিস্থিতিতে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন প্রতিকা রাওয়াল এবং হরমনপ্রীত। দু’জনে মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২৪ রান যোগ করেন। প্রতিকা ৬১ রান করে আউট হলেও হরমনপ্রীত নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।
১২১ বলের ইনিংসে ১২৬ রান করেন হরমনপ্রীত। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৫টি চার। শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ায় তাঁকে সতর্ক হয়ে খেলতে হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বুঝে রানের গতি বাড়ান তিনি। এক দিকে উইকেট ধরে রাখা, অন্য দিকে নিয়মিত রান তোলা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে ইনিংস সাজান ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাঁর এই ইনিংসেই বড় রানের ভিত পেয়ে যায় ভারত।
হরমনপ্রীতের শতরান পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয় নতুন নজির। মহিলাদের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি তাঁর অষ্টম শতরান। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক শতরানের মালিক ছিলেন মিতালি রাজ। তাঁকে টপকে এখন দ্বিতীয় স্থানে হরমনপ্রীত। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন স্মৃতি মান্ধানা, যাঁর নামের পাশে রয়েছে ১৪টি শতরান। অর্থাৎ, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে শতরানের নিরিখে এখন স্মৃতির পরেই হরমনপ্রীত।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরেও ব্যাটার হিসাবে নিজের গুরুত্ব যে কমেনি, তা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেই বুঝিয়ে দিয়েছেন হরমনপ্রীত। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এর আগের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তার পর এক দিনের ক্রিকেটে শতরান। নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে আসার পরে নিজের ব্যাটিং উপভোগ করাই যে তাঁর লক্ষ্য, সেই কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের পরে হরমনপ্রীত বলেন, ‘আমি এমন একজন, যে সব সময় বাস্তবের কাছাকাছি থেকে জীবন কাটাতে পছন্দ করি। এটাই এখন বাস্তব এবং আমি সেটাকে মেনে নিতে চাই। ক্রিকেট এমন একটা বিষয়, যা আমাকে আনন্দ দেয়। ব্যাটিং আমি গোটা কেরিয়ার জুড়েই উপভোগ করেছি। এখন শুধু ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই।’
ব্যাট করার সময় অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আপনি যখন ব্যাট করছেন, তখন এই বিষয়গুলি মাথায় আসে না। তখন আপনি একজন ব্যাটার হিসাবে খেলছেন। আপনার দায়িত্ব নিতে হয় এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করতে হয়। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, আমি নিজের ব্যাটিং উপভোগ করতে চাই।’
এক দিনের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। প্রতিকা রাওয়ালের সঙ্গে ব্যাট করার সময় তাঁরা আলোচনা করেছিলেন, ভালো বলকে সম্মান জানাতে হবে এবং খারাপ বলের সুযোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সে দিন এক দিনের ম্যাচ খেলছিলাম। এই ফরম্যাটে আলাদা ভাবে খেলতে হয়। প্রতিকা এবং আমি আলোচনা করেছিলাম, ভালো বলকে সম্মান দিতে হবে। আবার খারাপ বল এলে তার সুযোগও ছাড়া যাবে না।’
ভারতের ইনিংসের শেষ দিকে দীপ্তি শর্মাও দুরন্ত শতরান করেন। তিনি ৮৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করেন। হরমনপ্রীত ও দীপ্তি পঞ্চম উইকেটে ১৫৩ রান যোগ করেন। মহিলাদের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই জুটি ভারতের হয়ে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছে। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২৮ রান তোলে ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৮.৫ ওভারে ২০৭ রানে শেষ হয়ে যায় জিম্বাবোয়ের ইনিংস। ফলে ১২১ রানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজও নিশ্চিত করল স্মৃতি মান্ধানার দল। বল হাতে চার উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন বৈষ্ণবী শর্মা।
সব মিলিয়ে হরমনপ্রীতের এই শতরান শুধু ম্যাচ জেতানোর ইনিংস নয়, তাঁর ব্যক্তিগত কেরিয়ারেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অধিনায়কত্বের চাপ সরিয়ে রেখে ব্যাটিংয়ে মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে তাঁকে নতুন করে সাফল্য এনে দিচ্ছে, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে পরপর দুই ফরম্যাটে তাঁর ইনিংস তারই ইঙ্গিত। মিতালি রাজকে টপকে ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শতরানকারী হয়ে নিজের কেরিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন তিনি।




