নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেটের বাইশ গজে একের পর এক রেকর্ড, কোটি কোটি অনুরাগীর ভালোবাসা, বিশ্বজোড়া খ্যাতি,সবই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। কিন্তু এত সাফল্যের পরেও শচীন তেন্ডুলকরের কাছে বাড়ি ফেরার আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একেবারে সাধারণ একটি বিষয়, মায়ের হাতের রান্না। দীর্ঘ ক্রিকেট সফর শেষে বাড়ি ফেরার আগে মাকে ফোন করে নিজের পছন্দের খাবারের কথা জানাতেন মাস্টার ব্লাস্টার। তাঁর সেই স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে পরিবারের প্রতি টান এবং ঘরোয়া খাবারের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা।
বাড়ি ফেরার আগেই মাকে ফোন করতেন শচীন
ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হত শচীনকে। ম্যাচ, অনুশীলন আর সফরের ক্লান্তির মাঝে বাড়ির খাবারের জন্য মন কেমন করত তাঁর। তাই বাড়ি ফেরার দু’-তিন দিন আগেই মাকে ফোন করতেন তিনি। বাড়ি পৌঁছে কী কী খাবার খেতে চান, সেই তালিকাও জানিয়ে দিতেন আগেভাগে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নিজের এই অভ্যাসের কথা ভাগ করে নিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার। তাঁর কথায়, মায়ের হাতে তৈরি পরিচিত খাবার খাওয়ার আনন্দ ছিল অন্য রকম।
কোন খাবারগুলি সবচেয়ে প্রিয় ছিল মাস্টার ব্লাস্টারের?
শচীনের পছন্দের তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া খাবার। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বরণ-ভাত। ডাল ও ভাত দিয়ে তৈরি এই সাধারণ পদটি মহারাষ্ট্রের বহু পরিবারের পরিচিত খাবার। পাশাপাশি তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিল বাটাটা ভাজি, অর্থাৎ আলু দিয়ে তৈরি একটি সুস্বাদু পদ।
দীর্ঘ সফর শেষে বাড়ি ফিরে এই পরিচিত খাবারগুলি খাওয়ার মধ্যে আলাদা তৃপ্তি খুঁজে পেতেন তিনি। দামি রেস্তরাঁর খাবার নয়, বরং বাড়ির রান্নার পরিচিত স্বাদই তাঁর কাছে ছিল বিশেষ।
ঘি মিশিয়ে হাতে খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা
শচীনের খাবারের অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ঘি মিশিয়ে হাতে খাওয়ার আনন্দও। মায়ের রান্নার একটি বিশেষ মিশ্রণের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। পরিবারের মধ্যে সেই রান্নার পদ্ধতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছলেও মায়ের হাতের আসল স্বাদ হুবহু ফিরিয়ে আনা কঠিন বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট তারকা।
কারণ, রান্নায় উপকরণের পাশাপাশি যিনি রান্না করছেন, তাঁর নিজস্ব ছোঁয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বখ্যাত তারকার কাছেও মায়ের রান্নাই সেরা
ক্রিকেটের ইতিহাসে শচীন তেন্ডুলকরের নাম চিরস্মরণীয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসংখ্য কীর্তি গড়লেও ব্যক্তিগত জীবনের এই স্মৃতি তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে সাধারণ মানুষের কাছে।
দিনের পর দিন মাঠে লড়াই, অনুশীলন এবং সফরের ব্যস্ততার পর বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের খাবার খাওয়ার আনন্দ তাঁর কাছে ছিল অমূল্য। শচীনের এই স্মৃতিচারণ মনে করিয়ে দেয়, জীবনে যত বড় সাফল্যই আসুক না কেন, পরিবারের ভালোবাসা আর মায়ের হাতের রান্নার টান অনেক সময় সব কিছুর ঊর্ধ্বে থাকে।




