বিশেষ প্রতিবেদন: পরপর দুই ঘটনায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, প্রথমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, আর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণ চলাকালীন অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। এরপর পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। তবে দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট, তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং আইনি প্রশ্নগুলি আলাদা করে দেখা জরুরি।
বারুইপুর: জুলাইয়ে কী ঘটেছিল?
জুলাই মাসে বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার পর পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
৮ জুলাই অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, সেই সময় সে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পাল্টা গুলিতে জখম হয় প্রভাস। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে জনরোষের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কলকাতা হাই কোর্টও এনকাউন্টারের পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল।
গাইঘাটা: ২৭ অক্টোবর ফের এনকাউন্টার
গাইঘাটায় ১৭ বছরের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় ২৫ অক্টোবর। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার রাতে জলসায় যোগ দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোরী। রবিবার সকালে এক আত্মীয়ের বাড়ির পিছন থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে ফরেনসিক দল ও মেডিক্যাল বোর্ডও যুক্ত হয়।
২৭ অক্টোবর ভোরে অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। পুলিশের দাবি, সে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
দুই ঘটনার মিল কোথায়, প্রশ্নই বা কী?
দুই ক্ষেত্রেই নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ, অভিযুক্তের গ্রেফতার এবং অপরাধের পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। দুই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যেও মিল রয়েছে—অভিযুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল বলে দাবি।
তবে এনকাউন্টারের পরিস্থিতি, পুলিশের পদক্ষেপ এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। বারুইপুরের ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল। গাইঘাটার ক্ষেত্রেও তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হলেও, নির্যাতিতাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রমাণ সংগ্রহ, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব কমে যায় না। পুলিশের দাবি ও তদন্তের ফলাফল যাচাই করেই এই দুই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।




