নিউজ ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ফের বাড়ছে উত্তেজনা। দুই দেশের সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং উত্তর কোরিয়ার সাঁজোয়া কামান মোতায়েনের খবর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে স্থলমাইন বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে দুই দেশ। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সীমান্তে কামান মোতায়েন, কী দেখা গেল?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে উত্তর কোরিয়ার তিনটি সাঁজোয়া সামরিক যান দেখতে পান সংবাদ সংস্থার এক প্রতিনিধি। যানগুলির কামানের নল দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাক করা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই যানগুলি স্বচালিত ১২২ মিলিমিটার কামানবাহী সামরিক যান। সীমান্তের কাছে এভাবে কামান মোতায়েনকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা DMZ-এর মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন উত্তর কোরীয় সেনাকে বেড়া তৈরির কাজ করতে দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সীমান্তের কাছে এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি কেন বাড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়াকে শক্ত বার্তা দিতে চাইছে পিয়ংইয়ং। তবে এই মোতায়েনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘিরে সংঘাত
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পোঁতা স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি হয়েছিল। সিওলের দাবি, এই ঘটনা কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
জাতিসংঘের কমান্ডও জানিয়েছে, সীমান্তের নির্ধারিত রেখা পেরিয়ে উত্তর কোরিয়ার মাইন পোঁতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী। তবে এই ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং।
রাষ্ট্রপুঞ্জে পাল্টা অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার
রবিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত এলাকায় নির্মাণকাজকে সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে সিওল।
উত্তর কোরিয়া আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং তার পরিণতির জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে দায় নিতে হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সামরিক সীমানা অতিক্রম করলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়।
যুদ্ধের আশঙ্কা কি বাড়ছে?
সীমান্তে কামান মোতায়েন, সেনাদের তৎপরতা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তবে এখনই দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকলে ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আগামী দিনে দুই দেশের পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।




