নিউজ ডেস্ক: ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের জয়ী হয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রবিবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৮০ বছর বয়সি এই নেতা। তবে এই জয় শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ঘটনা নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। লুলার জয়ের ফলে লাতিন আমেরিকায় মার্কিনপন্থী রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তির বিস্তারেও ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, লুলা প্রায় ৫১.৮ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রাপ্ত ভোট প্রায় ৪৮.২ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৪৪ লক্ষ ভোট। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৪ অক্টোবরের প্রথম দফার ভোটে লুলাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে ছিলেন ফ্লাভিও। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় সমর্থন বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন লুলা। ব্রাজিলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ১৯৮০-র দশকে সামরিক শাসনের অবসানের পর প্রথম দফায় দ্বিতীয় স্থানে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জিতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির গড়লেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সরব ছিলেন লুলা। ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি ও ব্রাজিলের উপর আরোপিত শুল্কের চাপ নিয়ে আগেও প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ফ্লাভিও বলসোনারোকে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়। ফলে লুলার জয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সংঘাত অনিবার্য।
নির্বাচনে হারলেও ফল মেনে নিতে রাজি নন ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোটগ্রহণের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানোর আদালতের সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে তিনি নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানানোর কথা বলেছেন। তবে ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফল বদলে দেয়নি।
চতুর্থ মেয়াদে লুলার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিভাজন সামলানো। জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের ঋণের বোঝা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে ব্রাজিলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির কংগ্রেসে রক্ষণশীল শক্তির উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নেও বাধা আসতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছিলেন লুলা। এবার সেই প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই হবে তাঁর সরকারের অন্যতম পরীক্ষা।
আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৭-এ নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার কথা লুলার। আন্তর্জাতিক কূটনীতি থেকে দেশের অর্থনীতি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর নতুন সরকার। নির্বাচনী জয় রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায় খুললেও, সেই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সাফল্যে রূপান্তর করাই এখন লুলার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




