নিউজ ডেস্ক: ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে আর্থিক প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর নিশানায় শুধু বিজেপি নয়, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকাও। প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, জেলাশাসক, বিডিও, থানার ওসি এবং পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত কয়েক দিন ধরে পুলিশের অত্যাচার বেড়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁদের বিভিন্ন নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে। আইনি কাগজপত্র, স্ট্যাম্প পেপার এবং নোটারি করা হলফনামা তৈরির মতো বিষয়েও তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। অথচ, তাঁদের নিজেদের ক্ষেত্রেই একাধিক কাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
এমনকী, ব্যক্তিগতভাবে কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেও তাঁকে অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগের পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মী, বিধায়ক ও সাংসদদের ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের শাসকদলকেও নিশানা করেছেন তিনি। মমতার বক্তব্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য বহু নেতা আত্মত্যাগ করেছেন। অথচ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভয় দেখানো ও অর্থের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠছে।
মমতার স্পষ্ট বার্তা, বিজেপির যদি রাজনৈতিক লড়াই করার সাহস থাকে, তাহলে সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই করুক। তাতে তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁর এই অভিযোগ ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হতে পারে।




