নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুতে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হল। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করলেন ডিএমকে-সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও ফের জোরালো করল তারা।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়েকের নেতৃত্বে রাজ্য সচিবালয়ে বিশেষ সংক্ষিপ্ত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসএসআর) নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরব হন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, এসআইআর-এর সময় তামিলনাড়ুতে ৭৪ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। সেই নামগুলি পুনরায় তালিকায় তোলার জন্য নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে ডিএমকে।
বৈঠক ছাড়ল ১০ দল, রইল বিজেপি-এআইএডিএমকে
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ১০টি রাজনৈতিক দলের সদস্যেরা ওয়াকআউট করেন। বৈঠকে থেকে যায় বিজেপি, এআইএডিএমকে এবং দেশিয়া মক্কল কাচ্চি। ডিএমকে-র পাশাপাশি কংগ্রেস, অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) এবং তাদের সহযোগী দলগুলির প্রতিনিধিরাও বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। বাম দল, বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চি (ভিসিকে), মারুমালার্চি দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (এমডিএমকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরাও ওয়াকআউটে অংশ নেন। ডিএমকে-র সহযোগী দল ডিএমডিকে এবং নাম তামিলার কাচ্চির প্রতিনিধিরাও বৈঠক বয়কট করেন।
টিভিকে-র নেতা তথা রাজ্যের বিদ্যুৎ ও আইনমন্ত্রী সি টি আর নির্মল কুমার বলেন, এসআইআর-এর সময় যে ভুলগুলি হয়েছে, সেগুলি সংশোধন না করেই নতুন করে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ অর্থহীন। তাঁর বক্তব্য, আগে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক নির্বাচন কমিশন, তার পর নতুন সংশোধনের কাজে হাত দেওয়া উচিত।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি
ডিএমকে-র আইন শাখার নেতা আই পরন্তমন প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর-এর সময় বাদ পড়া ৭৪ লক্ষ ভোটারের নাম ফের তালিকায় তোলার জন্য কমিশন কী করেছে? তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার দায় নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ করা উচিত।
ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিনের দল আগেও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে। দলের অভিযোগ, এই সংশোধনের ফলে বহু যোগ্য ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলেও দাবি বিরোধীদের। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত বক্তব্য এবং বাদ পড়া ভোটারদের নাম ফেরানোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
তামিলনাড়ুতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এই সংঘাত এমন সময়ে বাড়ল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় স্তরেও বিরোধী দলগুলি সরব। এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল, বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধীরা।




