কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: এত দিন বড় পর্দায় তাঁকে দেখা গিয়েছে কখনও নায়ক, কখনও খলনায়ক, কখনও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও। পর্দায় ফাটাকেষ্টরূপে তাঁকে দেখা গিয়েছিল মন্ত্রীর ভূমিকায়। এ বার বাস্তবেও প্রশাসনের মঞ্চে নয়া ভূমিকায় মিঠুন চক্রবর্তী। বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুনকে নিয়োগ করা হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে। শুধু উপদেষ্টা পদেই থামছে না তাঁর নতুন দায়িত্ব। তাঁকে দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে এই দায়িত্ব সামলাবেন 'মহাগুরু'। বুধবার এই ঘোষণা করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন ঘিরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই মিঠুনের নতুন দায়িত্বের কথা প্রকাশ্যে আসে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছে, মিঠুনের নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি এ বার বাংলা সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিষয়ে তাঁকে সরকারি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যেতে পারে।
মিঠুনকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহানায়কের জীবন ও কাজকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই আবহেই মিঠুনকে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা করা হল। আগামী ডিসেম্বরেই বসবে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৩২ তম আসর। ফলে উত্তমকুমারের সিনেমা, বাংলা ছবির ঐতিহ্য এবং বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের সেতুবন্ধন—এই সমস্ত ক্ষেত্রেই মিঠুনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হতে পারে। জানা গিয়েছে, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়েও আগে মিঠুনের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন পদ পাওয়ার আগে থেকেই রাজ্যের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। এ বার সেই যোগাযোগই পেল সরকারি স্বীকৃতি এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বের পরিসর।
৫ দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় জীবনে মিঠুন চক্রবর্তী ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। ‘মৃগয়া’ দিয়ে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ। প্রথম ছবিতেই নজর কেড়েছিলেন তিনি। পরে ‘সুরক্ষা’, ‘ডিস্কো ড্যান্সার’, ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’, ‘কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি’, ‘কম্যান্ডো’-সহ একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে সর্বভারতীয় তারকা হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। বাংলা, হিন্দি-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা সাড়ে তিনশোরও বেশি। শুধু অভিনেতা হিসাবেই নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সময়, ধারা এবং পরিবর্তনেরও প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই এ বার সরকারি সাংস্কৃতিক নীতির ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগে, সেটাই দেখার। পর্যটন-সহ আরও কিছু ক্ষেত্রেও মিঠুন রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন বলে খবর।
এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ারে একটি ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত মিঠুন। সেখান থেকেই এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের স্বাক্ষর রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যকর হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই। ফলে শীঘ্রই সরকারিভাবে নিজের নতুন দায়িত্ব সামলাতে শুরু করতে পারেন পর্দার 'ফাটাকেষ্ট'। এত দিন সিনেমার পর্দায় তাঁর সংলাপ, নাচ আর অভিনয় দর্শকদের মাতিয়েছে। রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় তিনি। এ বার সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হল প্রশাসনিক দায়িত্বও। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে বাংলা সিনেমা, শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শ কাজে লাগানো হয়, আগামী দিনে তার দিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে তাঁর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
