নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণ করে ফেরার পথে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, প্রস্রাব করার কথা বলে পুলিশের গাড়ি থামাতে বলেন তিনি। এরপর গাড়ি থেকে নামতেই এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশকর্মীদের পাল্টা গুলি চালাতে হয়। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হন অভিযুক্ত। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবারের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পুলিশের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন নিয়ে।
কীভাবে ঘটল গোটা ঘটনা?
টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার গাইঘাটায় ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর অভিযুক্তকে নিয়ে ফিরছিল পুলিশ। সেই সময় শৌচকর্মের প্রয়োজনের কথা বলে গাড়ি থামাতে বলেন তিনি। পুলিশকর্মীরা তাঁকে গাড়ি থেকে নামানোর পরই পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায় বলে দাবি পুলিশের।
অভিযোগ, ওই সময় এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে রিভলবার ছিনিয়ে নেন অভিযুক্ত। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালান তিনি। আচমকা গুলির মুখে পড়ে এক পুলিশকর্মী আত্মরক্ষার জন্য পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় ওই পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের রক্ষা করতে পাল্টা গুলি চালান পুলিশকর্মীরা। পুলিশের দাবি, পাল্টা গুলিতে অভিযুক্তের পায়ে-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
কী অভিযোগ ছিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে?
এই ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছন থেকে এক নাবালিকার অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, ওই নাবালিকা মায়ের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। পরে বান্ধবীদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিল সে। কিছুক্ষণ পর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপরই উদ্ধার হয় তার দেহ।
মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
বারুইপুরের পর ফের এনকাউন্টার!
সাম্প্রতিক সময়ে বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার পর গাইঘাটার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরপর দুই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রথমে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালান এবং আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গোটা ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলিচালনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসবে।




