নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর আবহে ধরা পড়ল কলকাতা ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ট্রাম ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। তিলোত্তমা শহর কলকাতা আর কোলকাতার সেই ঐতিহ্যবাহী ‘কলকাতা ট্রাম’। গত সপ্তাহান্তের দুর্গাপূজা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা এই দুটি উৎসব একসাথে উদযাপিত হয় মেলবোর্ন এবং সেখানেই মেলবোর্ন ও কলকাতার এক অনন্য সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন দেখতে পান দর্শনার্থীরা।
দুই শহরের ট্রাম যাত্রার মেলবন্ধন-
মেলবোর্ন শহরের রাস্তাঘাটে যেমন ট্রাম একটি অত্যন্ত পরিচিত পরিবহন এবং নিয়মিত দৃশ্য, সেরকমই কলকাতার ইতিহাস অবর্তমানে একই ভাবে ট্রাম জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির অস্থিতে। আর এবার এই দুই শহরের ট্রাম ঐতিহ্যকে এক রেখায় আনতে মেলবোর্ন শহরের জিলং-এর পূজা মণ্ডপে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন রবার্তো ডি'আন্দ্রিয়া, যিনি মেলবোর্নের একজন প্রাক্তন ট্রাম কন্ডাক্টর ও চালক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আগে কলকাতা ও মেলবোর্নের ট্রামপ্রেমীদের নিয়ে শুরু করেছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন যার নাম ছিল ‘ট্রামযাত্রা’। কলকাতায় ট্রাম রুটগুলি যাতে টিকে থাকে সেই দাবিতে এই আন্দোলন দুই শহরের ট্রামপ্রেমীদের বহু বছর ধরে করে রেখেছে একত্রিত ।
কলকাতা ও মেলবোর্ন—উভয় শহরের ট্রামের ঐতিহাসিক ছবি ও স্মারক নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এদিন তিনি কলকাতা ট্রামওয়েজ কোম্পানির (CTC) ঐতিহ্যবাহী খাকি শার্ট এবং মেলবোর্ন ট্রামের প্রতীকী ব্যাজ পরে উপস্থিত হয়ে সবার নজর কাড়েন। উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন রবার্তো এবং এই পূজায় অংশ নেন তিনি। জিলং ওয়েস্টের ইউক্রেনিয়ান কমিউনিটি হলে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্রিস্টিন কাজিন্স এবং ডেপুটি মেয়র এডি কন্টেলা । তারাও ‘ট্রামযাত্রা’ আন্দোলনের বিষয়ে নিজেদের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেন। পূজায় আগত অতিথিদের জন্য ছিল আরও এক বিশেষ চমক—তাদেরকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় একটি বিশেষ লেজার-এনগ্রেভড চিজ বোর্ড, যাতে খোদাই করা ছিল কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং মেলবোর্নের ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশনের ছবি।হাজার মাইল দূরেও ট্রামের টানে অটুট রইল দুই শহরের সংস্কৃতি ও আবেগের বন্ধন।




