নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে মুম্বাইয়ের জুহুতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। এই ঘটনার পর বলিউডের প্রধান শিল্পী ও কলাকুশলীদের সংগঠন এফডব্লিউআইসিই (FWICE - Federation of Western India Cine Employees) তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মহারাষ্ট্র সরকার এবং মুম্বাই পুলিশের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, চলচ্চিত্র জগতের তারকা এবং কর্মীদের যদি উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে পুরো চলচ্চিত্র শিল্প মুম্বাই ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।
১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে, মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ক্লাব থেকে খেলা শেষ করে নিজের গাড়িতে করে ফেরার সময় অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা পর পর পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়। গাড়ির ভেতর মাথা নিচু করে নেওয়ার ফলে অভিনেতা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও, তাঁর ব্যক্তিগত চালক ফিরদৌস এবং পাশে থাকা এক অটোচালক বন্দুকের গুলিতে আহত হন।
টাইগারের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার পর অশোক পণ্ডিত, বি এন তিওয়ারি সহ FWICE-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের উদ্দেশ্যে বিবৃতি জারি করেন। চিঠির মূল হিসেবে ছিল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের দিনগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা: মুম্বাইকে আবার ১৯৯০-এর দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও গ্যাংস্টার রাজের দিনগুলোতে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। চলচ্চিত্র শিল্প মুম্বাই ছাড়ার হুঁশিয়ারি: চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের ওপর যদি এই ধরনের হামলা বারবার হতে থাকে, তবে বলিউডের প্রযোজক এবং কলাকুশলীরা কাজ বন্ধ করতে বা মুম্বাইয়ের বাইরে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বাধ্য হবেন। এছড়াও ধারাবাহিক আক্রমণ যেরকম এর আগে প্রখ্যাত পরিচালক রোহিত শেঠির উপর একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং সালমান খানকেও বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র জগতের নিরাপত্তার এই ক্রমান্বয় অবনতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ১৫টি দল গঠন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তদন্ত চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশি তদন্তে আরও জানা গেছে, গুলি চালানোর মহড়ায়, মূল শুটাররা হামলার আগে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির একটি হোটেলের ঘরে এবং কাছাকাছি অঞ্চলে বন্দুকের কার্যকারিতা পরীক্ষা ও গুলি চালানোর মহড়া দিয়েছিল। ঘটনার নেপথ্যে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং বা তার সহযোগী হ্যান্ডলারদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুষ্কৃতীরা 'জাঙ্গি' ও 'সিগন্যাল' অ্যাপ ব্যবহার করে তাদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। শুটাররা পুলিশের গতিবিধি এবং তদন্তের খবর লাইভ টেলিভিশন নিউজে দেখে বারবার তাদের পালানোর রাস্তা বদল করছিল।
এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে FWICE সমস্ত প্রযোজনা সংস্থাগুলোকে শ্যুটিং সেটের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। সেটে প্রবেশের আগে কড়া পরীক্ষা করা, প্রত্যেক কর্মীর ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন করা এবং অপরিচিত বা অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার জন্য অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে।




