নিউজ ডেস্ক : যাত্রার গন্তব্য ছিল সুদূর দক্ষিণ ভারত। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই ট্রেনে চেপেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই যাত্রা পথেই বাধা পড়ল। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে রেল পুলিশের অভিযানে সামনে এলো একাধিক প্রশ্ন। কি উদ্দেশ্যে এই যাত্রা? কিভাবেই বা শুরু হয়েছিল তাঁদের ভারত সফর? তদন্তকারীরা এখন সেই উত্তরই খুঁজছে।
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন দুই বাংলাদেশি মহিলা। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম রাবিয়া আক্তার এবং শিউলি আক্তার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুজনেরই বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ এলাকায়। তাঁদের গন্তব্য ছিল কেরল। তবে, কিভাবে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুমুখি একটি ট্রেনের সাধারণ কামরায় যাত্রা করছিলেন ওই দুই মহিলা। তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে গোপন সূত্রে খবর পান তদন্তকারীরা। এরপর শিলিগুড়ির জিআরপির স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ এবং এনজেপি জিআরপি যৌথভাবে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীদের দাবি, ভারতে প্রবেশের বৈধ নথিপত্র দেখতে চাওয়া হলে দুই মহিলা কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। এরপরই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ভারতে প্রবেশের পর তাঁরা কেরলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তবে, ঠিক কোন পথে তাঁরা এ দেশে ঢুকেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
তদন্তকারীরা এখন তাঁদের ভারতে প্রবেশের পথ যাত্রার উদ্দেশ্য এবং এই ঘটনায় অন্য কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের গন্তব্য কেরল হলেও বেঙ্গালুরুমুখী ট্রেনে কেন তাঁরা যাত্রা করছিলেন, সেই বিষয়টি তদন্তের পরিধিতে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁদের যাত্রাপথের পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে দুই বিদেশি নাগরিকের গ্রেফতারি ঘিরে রেল পুলিশের তৎপরতা নতুন করে নজরে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভারতে প্রবেশের পরিস্থিতি বা যাত্রার পিছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।




