নিউজ ডেস্ক: বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের একটি বিস্ফোরক মন্তব্যকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকের একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বর্ষীয়ান এই অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি নিজেকে একজন ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নকশাল’ মনে করেন। তাঁর কথায়, “ম্যায় ফখর কে সাথ কেহতা হুঁ, ম্যায় দিমাগি নকশাল হুঁ”। সরাসরি সরকারের নীতি ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে এমন খোলামেলা বয়ান সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে বর্ষীয়ান অভিনেতা দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ছাত্রবিক্ষোভ ও তা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।
শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অসদাচরণ ও বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভিন্নমত ও সমালোচনার কণ্ঠরোধ করতেই গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদের ধারা উল্লেখ করতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়ার ছাত্র আন্দোলনের নজির তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দেশের তরুণ সমাজের অদম্য সাহস এবং ভারতবর্ষের মজবুত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনপীড়ন চালিয়ে ভেঙে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যুবসমাজের এই প্রতিবাদী মানসিকতাই যে গণতন্ত্রের আসল শক্তি, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে প্রতিষ্ঠানগত ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদের সুর থামানো যাবে না।
বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে অধিকার কর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলোর একাংশ তাঁর এই স্পষ্টবাদিতাকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে শাসক দলের সমর্থক ও একাংশের সমালোচকদের পক্ষ থেকে তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি নাসিরুদ্দিন শাহের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।




