নিউজ ডেস্ক: স্পেনের উচ্চগতির রেলপথে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬ জনে পৌঁছেছে। তবে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দেশটির রেল যোগাযোগের অন্যতম দুই প্রধান উচ্চগতির ট্রেন রেলওয়ে সংস্থা রেনফে-র ‘এভিই’ এবং বেসরকারি অপারেটর ‘ইরিও’-র মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের একাধিক কামরা দুমড়ে-মুচড়ে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও প্রাথমিক চিত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার সকালে সাধারণ গতির চেয়ে অত্যন্ত দ্রুতগামী দুটি ট্রেন একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। তীব্র ঝাঁকুনি ও বিকট শব্দে ট্রেনের বগিগুলো ছিটকে লাইনের পাশে গভীর খাদ ও ঝোপঝাড়ের মধ্যে আছড়ে পড়ে। একটি ট্রেনের কয়েকটি কামরা পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে রেললাইনের বাইরে স্তূপাকারে জমে থাকতে দেখা গেছে।
https://x.com/ceciarmy/status/2115374603287834690?a=FmFgdaWt5_It5OPr4nA&s=08
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই স্থানীয় প্রশাসন, দমকল ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতর বহু যাত্রী আটকা পড়েন। গ্যাস কাটার দিয়ে কামরার লোহার পাত কেটে যাত্রীদের বের করে আনার কাজ শুরু হয়। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, গুরুতর আহতদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখেমুখে এখনও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রচণ্ড গতির কারণে সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই মারাত্মক ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে কামরার ভেতরে থাকা মানুষজন ছিটকে এদিক-ওদিক পড়ে যান। চারদিকে ধোঁয়া আর কান্নার রোল পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর রাজধানী মাদ্রিদের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়ার সংযোগকারী উচ্চগতির রেল রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে বহু ট্রেন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জরুরি বৈঠক ডেকেছে এবং দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতির নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার জন্য স্পেনের পরিচিতি থাকলেও এই দুর্ঘটনাটি পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঠিক কী কারণে একই লাইনে কিংবা সংযোগস্থলে এই দুর্ঘটনা ঘটল এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সিগন্যালিং বিপর্যয় নাকি চালকের অসাবধানতা তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




