স্পোর্টস ডেস্ক: চ্যাম্পিয়নদের রাতারাতি লজ্জার মুখে পড়তে হল! ইংল্যান্ডের ফুটবলে রূপকথার রাত লিখল চতুর্থ ডিভিশনের দল ফ্লিটউড টাউন। লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে শেষ আটের পথে এগিয়ে গেল তারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে। টাইব্রেকারে আর্সেনালের ব্রুনো গিমারায়েসের শট আটকে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। এর পর কোনর হগহে জয়সূচক শটটি জালে জড়াতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গোটা ফ্লিটউড। অন্য দিকে, এমন লজ্জার হারে ভেঙে পড়েছেন আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতা। তাঁর কথায়, এই দিনটি অত্যন্ত দুঃখের।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই আর্সেনালকে ধাক্কা দিয়েছিল ফ্লিটউড। অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সমতা ফেরায় আর্সেনাল। এরপর বলের দখল থেকে আক্রমণ, সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল লন্ডনের ক্লাবটি। কিন্তু একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাজিমাত করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ।
আর্সেনালের হারের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে আর্তেতার দল নির্বাচন। রবিবার লিভারপুলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের কথা মাথায় রেখে প্রথম একাদশে ন'টি পরিবর্তন করেছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে ফিরে এল। ম্যাচের শেষ দিকে ১৬ বছরের তরুণ ম্যাক্স ডাউম্যানও হিংসাত্মক আচরণের জন্য লাল কার্ড দেখেন। যদিও ডাউম্যানকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, মাঠ ছাড়ার সময় তরুণ ফুটবলারকে কড়া কথা শোনান আর্সেনাল কোচ। পরে অবশ্য জানান, ঘটনার দৃশ্য ভাল করে দেখে তবেই তিনি চূড়ান্ত মত দেবেন।
ম্যাচের পর আর্তেতা বলেন, ফ্লিটউডকে পরের রাউন্ডে ওঠার জন্য অভিনন্দন জানাতেই হবে। তবে আর্সেনালের কাছে এই হার অত্যন্ত যন্ত্রণার। ফুটবলারদের মানসিকতা বা লড়াই নিয়ে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। দশ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও দল লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু শুরুতেই খারাপ গোল হজম করে প্রতিপক্ষকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে আর্সেনাল। প্রচুর বলের দখল, অসংখ্য শট এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেও সেগুলিকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। আর্তেতার মতে, পরের রাউন্ডে যেতে হলে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতেই হত।
শনিবার এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে পয়েন্টে সমতা এনেছিল আর্সেনাল। আগের ১৩টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতে জয়ের ছন্দে থাকা দলটির কাছে তাই এই হার বড় ধাক্কা। ক্লাবের ঐতিহ্য ও জার্সির মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব ফুটবলারদের রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন আর্তেতা।
অন্য দিকে, ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁর মতে, ক্লাবের ইতিহাসে এত বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় আগে আসেনি। আর্সেনালের মতো সংগঠিত ও শক্তিশালী দলকে খেলায় হারিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বুঝেই রক্ষণ জমাট রেখে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছিলেন তাঁরা। মাঠে সেই পরিকল্পনা সফল হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন। চোখের জলে আবেগ সামলাতে পারেননি ললরও। এক দিকে আর্সেনালের কাছে এই রাত দুঃস্বপ্নের, অন্য দিকে ফ্লিটউডের কাছে তা চিরস্মরণীয় ইতিহাস।




