নিউজ ডেস্ক: কাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ। তাও আবার চতুর্থ ডিভিশনের দলের কাছে হেরে! ইংল্যান্ডের লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ফ্লিটউড টাউনের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিল আর্সেনাল। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল ছিল ১-১। টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শেষ আটে পৌঁছে গেল ফ্লিটউড। প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন দলের কাছে এই হার যে কতটা যন্ত্রণার, তা ম্যাচের পর স্পষ্ট করে দিলেন কোচ মিকেল আর্তেতা। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে এটা খুব দুঃখের দিন।’
মঙ্গলবারের এই হার আর্সেনালের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অঘটন। দুই দলের মধ্যে ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ কাঠামোয় ৮৪টি ধাপের ব্যবধান। এক দিকে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল, অন্য দিকে চতুর্থ ডিভিশনের ফ্লিটউড। কিন্তু মাঠে সেই ব্যবধানের কোনও প্রতিফলন দেখা গেল না। বরং শৃঙ্খলাপূর্ণ রক্ষণ এবং পাল্টা আক্রমণের সাহায্যে আর্সেনালকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিল ফ্লিটউড।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অ্যারন লুপালো-বির গোলে এগিয়ে যায় ফ্লিটউড। আর্সেনালের রক্ষণে ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। বিরতির পর সমতা ফেরান ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় আর্সেনাল। বলের দখল এবং আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর গোল করতে পারেনি তারা।
টাইব্রেকারে আর্সেনালের হয়ে ব্রুনো গিমারেসের শট আটকে দেন ফ্লিটউডের গোলরক্ষক জে লিঞ্চ। শেষ পর্যন্ত কনর হগির সফল শট ফ্লিটউডের জয় নিশ্চিত করে। আর্সেনালের তরুণ ফুটবলার ম্যাক্স ডাওম্যান ম্যাচের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে লাথি মারার ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন। ফলে শেষ মুহূর্তে দশ জনে নেমে যায় আর্সেনাল।
ম্যাচের পর আর্তেতা বলেন, ‘প্রথমেই ফ্লিটউডকে অভিনন্দন জানাতে চাই। ওরা যে ভাবে পরের রাউন্ডে উঠেছে, তার জন্য ওদের প্রশংসা প্রাপ্য। আর আমাদের কাছে এটা খুব দুঃখের দিন।’
আর্সেনাল কোচ আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। ওরা যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে, জেতার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমাদের হাতে বল ছিল, অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, অনেক শটও নিয়েছি। টাইব্রেকারে যাওয়ার আগেই ব্যবধান বাড়াতে হলে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়। আমরা সেটা পারিনি।’
এই হারের নেপথ্যে আর্তেতার দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রবিবার লিভারপুলের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে তিনি প্রথম একাদশে ন’টি পরিবর্তন করেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের ফল ভাল হয়নি। দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও ফ্লিটউডকে হারাতে ব্যর্থ হল আর্সেনাল।
ফ্লিটউডের কোচ ম্যাট ললর অবশ্য দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের সেরা দলকে নিজেদের খেলায় হারিয়ে দেব, এমনটা ভাবার মতো বোকা বা অহংকারী আমরা নই। তাই ওদের জায়গা দেওয়া চলবে না, সুযোগ কমাতে হবে—এই পরিকল্পনাই নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, ছেলেরা সেটা দারুণ ভাবে করেছে।’
এই জয় ফ্লিটউডের ক্লাব-ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর আর্সেনালের কাছে এটি বড় ধাক্কা। আর্তেতার দলকে এখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কারণ কাপ থেকে বিদায়ের হতাশা সরিয়ে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মন দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই।




