স্পোর্টস ডেস্ক: একটি মিমকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে প্রবল চাপে পড়লেন কিলিয়ান এমবাপে। চিনের প্রাক্তন নেতা মাও জে দংকে নিয়ে তৈরি একটি মিম সম্পর্কে মন্তব্যের জেরে চিনা সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত চিনের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। শুধু এমবাপেই নন, বিতর্কের আঁচ এসে পড়েছে স্পেনের ফুটবল সংস্থা লা লিগার উপরেও। তারকার মন্তব্যে চিনের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগায় দুঃখপ্রকাশ করেছে লা লিগা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমবাপে স্বীকার করেছেন, তাঁর মন্তব্য যথাযথ ছিল না। তিনি বলেন, নিজের কথার কারণে চিনের বহু মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী চিনা সম্প্রদায়ের মানুষ যে আঘাত পেয়েছেন, তা এখন তিনি বুঝতে পারছেন। যাঁরা তাঁর কথায় কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। একই সঙ্গে চিনের মানুষ এবং তাঁদের ইতিহাসের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাউকে আঘাত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না বলে দাবি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।
https://x.com/myyangzi/status/2114921338263798229?a=ahbR6uXSomN42zGgOPo&s=20
ঠিক কী ঘটেছিল? সোমবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিয়ো। সেখানে এমবাপেকে তাঁর নিজের সম্পর্কে তৈরি পছন্দের মিম নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি এমন একটি ভিডিয়োর কথা বলেন, যেখানে এক ব্যক্তিকে চিনের একনায়ক বলে মনে করেছিলেন তিনি। পরে সেই ভিডিয়োতে দেখা যায়, মাও জে দংয়ের শরীরে এমবাপের মুখ বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি সম্পাদিত ছবি। এই প্রসঙ্গেই তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। চিনা সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, মন্তব্যটি তাঁদের দেশের ইতিহাস ও মানুষের ভাবাবেগকে অসম্মান করেছে। দ্রুত সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
বিতর্কের প্রভাব পড়েছে এমবাপের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও। খবর অনুযায়ী, তিনটি চিনা সংস্থা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব শেষ করেছে। ফলে বিষয়টি শুধু সমাজমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই আটকে থাকেনি, আর্থিক দিক থেকেও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছেন ফরাসি তারকা।
এমবাপের মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে লা লিগা। সংস্থার বক্তব্য, ওই মন্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে লা লিগার কোনও সম্পর্ক নেই। তবু স্পেনের ফুটবল সংস্থা হিসেবে চিনের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছে তারা। লা লিগার মতে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও ঐক্য স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। চিনের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে স্প্যানিশ ফুটবলকে যে সমর্থন দিয়ে এসেছেন, তার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও ব্যক্তিগতভাবে চিনা সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ক্লাব ও ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তেবাস। সব মিলিয়ে একটি মিমকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন এমবাপের ভাবমূর্তি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং স্প্যানিশ ফুটবলের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক—তিন ক্ষেত্রেই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।




