নিউজ ডেস্ক: এক লহমায় শেষ হয়ে গেল একটা গোটা পরিবার। রক্তের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক হোটেলের ঘরের মেঝেতে নিথর হয়ে পড়ে রইলেন বাবা-মা আর ঠাকুরদা-ঠাকুমা। আর সেই নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে অবুঝ চোখে শুধু ডাক দিয়ে চলেছে বছর ছয়েকের এক একরত্তি মেয়ে "মা, পাপা..."। পাশেই নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার দেড় বছরের ছোট ভাই। তারা এখনও জানে না, যারা ঘুমিয়ে আছেন, তারা আর কোনো দিনও চোখ মেলবেন না, কোনো দিন আর তাদের কোলে তুলে নেবেন না। গুয়াহাটির একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গুলিকাণ্ডে এভাবেই চোখের সামনে মা-বাবা ও গুরুজনদের হারিয়ে রাতারাতি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল দুই নিষ্পাপ শিশু।
ঘটনাটি ঘিরে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা আসাম জুড়ে।
একটি বিলাসবহুল হোটেলে প্রকাশ্যেই এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে এলোপাথারি গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন। জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম ঘনকান্ত। অভিযুক্ত নিজেও পাঁচ বছর বয়সি এক সন্তানের বাবা। তবে কীভাবে একজন অভিভাবক হয়ে সে এমন ঠান্ডা মাথায় দুটি ছোট শিশুর চোখের সামনে তাদের গোটা পরিবারকে নিঃশেষ করে দিতে পারল, সেই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
https://x.com/aboyobbhuyan/status/2115169073801933105?a=b_HArdYyqI54o759Fww&s=08
এই বর্বর কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেই মর্মান্তিক মুহূর্তের ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শুভ্র চাদরে ঢাকা রক্তাক্ত স্বজনদের গায়ে হাত বুলিয়ে অবিরাম ডেকে চলেছে ওই ছ’বছরের কন্যাশিশু, এই আশায় যে হয়তো তারা জেগে উঠবেন। সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে বুক কেঁপে উঠেছে নেটিজেনদের। এক লহমায় আশ্রয়হারা হয়ে যাওয়া দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সবাই।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ঘনকান্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তের গতিমুখ ও আইনি পদক্ষেপে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আদালতে ঘনকান্তর আইনজীবীর দাবি, নিছক ‘আত্মরক্ষা’র খাতিরেই নাকি গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি! তবে পাঁচ-পাঁচটি তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পর এমন যুক্তি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। অভিযুক্ত যাতে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পেয়ে যায় এবং কঠোরতম শাস্তি পায়, আসামের সর্বত্র এখন সেই জোরালো দাবিই উঠছে।




