নিউজ ডেস্ক: এটা কোনও রূপকথার গল্প নয়, বরং বিজ্ঞানের এক সত্যি ঘটনা। ৩২,০০০ বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা একটি ফুলের ঘুম ভাঙাল বিজ্ঞান! কাঠবিড়ালিই যখন নায়ক! যখন পৃথিবীতে ম্যামথ হেঁটে বেড়াত, তখন একটি ছোট্ট কাঠবিড়ালি মাটির নিচে কিছু বীজ লুকিয়ে রেখেছিল। আর ৩২,০০০ বছর পর সেই বীজ থেকেই ফুটল ফুল!
সাইবেরিয়ার বরফের দেশে, আজ থেকে ৩২,০০০ বছর আগে, অর্থাৎ প্লাইস্টোসিন যুগে, এক প্রজাতির কাঠবিড়ালি শীতের জন্য খাবার জমিয়ে রাখত। মাটির ১২৪ ফুট গভীরে, চিরস্থায়ী বরফের পারমাফ্রস্টের নিচে তারা বীজ লুকিয়ে রেখেছিল। সেখানেই বিশাল বিশাল ম্যামথ আর লোমশ গণ্ডারের হাড়ও পাওয়া গিয়েছে!
বিজ্ঞানীরা কী পেলেন, তার হিসেব দিতে গেলে বলা যায়, বরফের নিচে সেই গর্তে ছিল হাজার হাজার বীজ। সব বীজ নষ্ট হয়ে গেলেও বিজ্ঞানীরা খুঁজে পান এক অমূল্য জিনিস। কীভাবে ফুল ফুটল, সেটাও এক আশ্চর্যের বিষয়। বীজ থেকে সরাসরি গাছ হয়নি। বিজ্ঞানীরা Silene stenophylla নামের একটি উদ্ভিদের ফলের ভেতর থেকে একটুখানি টিস্যু বের করেন। তারপর ল্যাবে ইন ভিট্রো টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে সেই টিস্যু থেকে সম্পূর্ণ নতুন গাছ তৈরি করেন। আর তার ফলাফলও ছিল চমকপ্রদ ও অবিশ্বাস্য! সেই গাছ শুধু বড়ই হয়নি, তাতে সুন্দর সাদা ফুলও ফুটেছে! আর সেই ফুল থেকে আবার নতুন বীজও হয়েছে। অর্থাৎ, ৩২,০০০ বছরের ঘুম ভেঙে সে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এটাই ছিল তখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পুনরুজ্জীবিত উদ্ভিদ।
এই গবেষণাভিত্তিক পরীক্ষা আমাদের জন্য যথেষ্ট শিক্ষণীয়। কারণ, প্রকৃতি হলো সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি। বরফের নিচে হাজার বছরের ইতিহাস লুকিয়ে আছে। ছোট উদ্যোগও কীভাবে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে, এটি তারও একটি বড় উদাহরণ। ওই কাঠবিড়ালিটি নিশ্চয়ই জানত না, তার জমানো বীজ একদিন বিজ্ঞানের ইতিহাস এভাবে বদলে দেবে। আর বিজ্ঞান মানে হাল না ছাড়া। ৩২,০০০ বছরের পুরোনো একটি টিস্যু থেকে ফুল ফোটানো মানে অসম্ভবকে সম্ভব করা। তাই আরও একবার প্রমাণিত হল, বিজ্ঞানে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
বিজ্ঞান আসলে কঠিন কোনও বিষয় নয়। তবে, একটি ছোট কাঠবিড়ালির জমানো বীজ যদি ৩২ হাজার বছর পর ফুল হয়ে ফুটতে পারে, তা হলে প্রত্যেক মানুষের ভেতরের স্বপ্নের বীজও একদিন ফুটতে বাধ্য। প্রয়োজন শুধু যত্নের।




