নিউজ ডেস্ক: উৎসবের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি আর সেটা কাটতে না কাটতেই টলিউডে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত সহকারী পরিচালক দীপঙ্কর সরকার। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক রহস্য। উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন যার উত্তর এখনও মিলছেনা ঠিক ভাবে। ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক সূত্রে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি।
পরিচালক পথিকৃৎ বসু এবং শুভ্রজিৎ মিত্রের একাধিক ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন দীপঙ্কর। জিৎ অভিনীত সবে মাত্র প্রকাশিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের সহকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত পরিচালক পথিকৃৎ বসু। তাঁর কথায়, বাইরে থেকে দীপঙ্করের জীবন স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছিল। কোনো রকম অশান্তি কিংবা তৎপরতা তার মধ্যে একদমই লক্ষণীয় ছিল না। তাই এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
কলকাতার নাকতলায় বাড়ি দীপঙ্করের। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী। কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে ভীষণ ভাবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও। তিনি ‘দাবাড়ু’ ছবির শুটিংয়ের স্মৃতি ভাগ করে নিয়ে দীপঙ্করের প্রয়াণে গভীর শোকের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা।
অন্যদিকে, পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রের কাছেও দীপঙ্করের অপ্রত্যাশিত। ভয়ঙ্কর ধাক্কা দিয়েছে তাঁকে দীপঙ্করের মৃত্যুর খবর,প্রায় কুড়ি বছরের বন্ধুত্ব এবং দীর্ঘ ষোলো বছরের কর্মসম্পর্ক ছিল তাঁদের। ‘কাকাবাবু’ সিরিজ থেকে ‘চোরাবালি’, ‘অভিযাত্রিক’, ‘দেবী চৌধুরানী’— একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। শুধু সিনেমা নয়, তথ্যচিত্র এবং অন্যান্য কাজেও শুভ্রজিতের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী ছিলেন দীপঙ্কর। পুজোর আগেও তাঁদের কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
কাজের জগতে যাঁর সঙ্গে এত দীর্ঘ পথচলা, তাঁর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা। খুন নাকি আত্মহত্যা নাকি আত্মহত্যা প্ররোচনা ! দীপঙ্করের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অপেক্ষায় তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং টলিউডের সহকর্মীরা। এক সহকারী পরিচালকের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া বিনোদন জগতে।




