স্পোর্টস ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে বিস্ময় লুকিয়ে রাখতে পারলেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মাত্র ১৩.২ ওভারে ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিততেই সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজের দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসায়ও অনড় থাকলেন স্যামি। তাঁর মতে, ভারত কতটা বিপজ্জনক দল, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই দাপুটে ব্যাটিং তারই প্রমাণ।
ভারতের জয়ের পর স্যামি লেখেন, 'বাহ! ভারত সফরে আমার দল যা করে দেখিয়েছিল, তার জন্য ওদের প্রশংসা করেছিলাম বলেই। ভারত ভয়ংকর দল।' এরপর ভারতের ব্যাটিংয়ের অনুকূল পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ছোট মাঠের সীমানা, ব্যাটিংয়ের উপযোগী পিচ এবং বোলারদের হাতে ভেজা বল—এই তিনটি বিষয়ই ব্যাটারদের সুবিধা করে দিচ্ছে।
তবে স্যামির বক্তব্য শুধু ভারতের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে নয়। নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ভারত যে একই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করছে, তা তাঁকে আরও বিস্মিত করেছে। তিনি লেখেন, 'মহাদেশ আলাদা, কিন্তু আক্রমণের ধরন একই। সীমানা বড়, পিচ ব্যাটারদের জন্য তুলনায় কিছুটা কম সহায়ক, তবু কিছুই বদলায়নি। বোলাররা এখনও চাপে। হয় পরিকল্পনা ঠিকমতো কার্যকর করো, নয়তো শাস্তি ভোগ করো।' আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের কঠিন পরিস্থিতির ছবিই তুলে ধরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ।
মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে। জবাবে ভারত মাত্র ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে নেয়। ছয় উইকেটের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ভারত। দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নেন সূর্যকুমার যাদবরা।
ভারতের জয়ের নায়ক অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর ৩৫ বলেই শতরান করেন অভিষেক। পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ শতরান, আর সব ধরনের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একাদশ শতরান। তাঁর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশীও ঝড় তোলেন। মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। চারটি ছক্কা ও চারটি চারে সাজানো বৈভবের ইনিংসের সুবাদে দু’জনে মিলে মাত্র ৭.১ ওভারে ১৩৩ রান যোগ করেন।
এই জুটির দাপটেই ম্যাচ কার্যত একতরফা হয়ে যায়। ভারতের ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন শুধু রান তোলার গতি নয়, বোলারদের ওপর তৈরি হওয়া চাপের ছবিও স্পষ্ট করেছে। প্রথম পাঁচ ওভারেই দলীয় একশো রান এবং প্রথম ছয় ওভারে ১১৮ রান তুলে নতুন নজির গড়ে ভারত।
উল্লেখ্য, ভারতের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে লড়াই হয়েছিল হাড্ডাহাড্ডি। চারটি সম্পূর্ণ ম্যাচের শেষে সিরিজ ছিল ২-২। শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় সিরিজের নিষ্পত্তি হয়নি। সেই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপ ২৬১ রান করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। স্যামির মতে, ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে তাঁর দলের লড়াই প্রশংসার যোগ্য। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক দাপট যেন সেই মূল্যায়নকেই আরও জোরাল করল।




