স্পোর্টস ডেস্ক: বৈভব সূর্যবংশীকে তিন নম্বর থেকে সরিয়ে আবার ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে আনা। ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তই যেন তরুণ ব্যাটারের কাছে বড় উপহার! আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করলেন ১৫ বছরের বৈভব। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন তিনি। চারটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসের সৌজন্যে তাঁর স্ট্রাইক রেট ২৩৬.৮৪। বৈভবের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সদগোপন রমেশ। তাঁর মতে, ওপেনিংয়ে ফেরার ফলে দল পরিচালন সমিতির কাছ থেকে যেন ‘চকোলেট’ পেয়েছেন বৈভব।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য হতাশ করেছিলেন বৈভব। আট বল খেলে মাত্র চার রান করেছিলেন তিনি। তাঁর স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ওই পজিশন মানানসই নয় বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। তৃতীয় ম্যাচে তাই তাঁকে আবার পরিচিত ওপেনিংয়ের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়। আর তাতেই যেন বদলে গেল ছবিটা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে কিউয়ি বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন তরুণ ব্যাটার।
রমেশের কথায়, ওপেনিংয়ে ফেরার পর বৈভব এমন স্বাধীনতা নিয়ে খেলেছেন, যেন শুক্রবার সন্ধ্যায় ছুটি পাওয়া কোনও ছোট ছেলে পরের দু’দিনের ছুটির কথা ভেবে নিশ্চিন্ত মনে আনন্দ করছে। তাঁর ব্যাটিংয়ে কোনও জড়তা ছিল না। বরং নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার সুযোগ পেয়েছেন বৈভব। দলের এই সিদ্ধান্ত যে কাজে দিয়েছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁর ঝোড়ো ইনিংসই।
তবে শুধু বৈভব নন, রমেশের প্রশংসার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন অভিষেক শর্মাও। বাঁহাতি ওপেনারের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ প্রাক্তন ভারতীয় তারকা। অভিষেকের ৩৮ বলে ১১৩ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। তাঁর ব্যাটিংয়ের দাপটে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েন। রমেশের মতে, অভিষেক এমনভাবে ব্যাট করছেন যে তাঁর নাম শুনলেই বোলারদের মনে ভয় তৈরি হওয়ার কথা। সাত ওভারে ১৩৩ রান তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝান, এই ব্যাটিংয়ের গতি কতটা অবিশ্বাস্য ছিল।
মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের ১৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩.২ ওভারেই ১৯৯ রান তুলে নেয় ভারত। ছয় উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য ব্যবধানে এগিয়ে যায় দল। অভিষেক ও বৈভবের বিধ্বংসী শুরুতে ম্যাচ কার্যত একতরফা হয়ে যায়। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও দুই ব্যাটারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর কথায়, দু’জনের ব্যাটিং ছিল চোখজুড়ানো। পরে তিনি ও সঞ্জু স্যামসন যখন ব্যাট করতে নামেন, তখনও বল নড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে দুই ওপেনার কীভাবে এমন অনায়াসে শট খেলেছেন, তা ভেবেই অবাক হয়েছেন তিনি।
বৈভবকে তাঁর পরিচিত জায়গায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা এই ম্যাচেই স্পষ্ট। আর অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মিলে সেই সিদ্ধান্ত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতকে এনে দিয়েছে দুরন্ত জয়।




