নিউজ ডেস্ক: নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর গাড়ি ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের নীলগঞ্জে। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৌস্তভ বাগচী। গোটা বিষয়টি তিনি পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কেন তাঁকে ঘিরে এই বিক্ষোভ, কারা এর নেপথ্যে রয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
জানা গিয়েছে, এদিন কেন্দ্রীয় জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠান শেষে সংস্থার বাইরে বেরিয়ে আসার সময়ই বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। কৌস্তভের কথায়, 'আগে থেকেই বেশ কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ প্ল্যাকার্ড হাতে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কৌস্তভের গাড়ি বেরিয়ে আসতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুরু করেন তাঁরা। গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েও বিক্ষোভ দেখানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে কৌস্তভের গাড়ি এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এই বিক্ষোভের পিছনে তৃণমূল থেকে হঠাৎ বিজেপি হওয়া বা তৃণমূল করত এমন লোকজনেরই হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপি বিধায়ক।
সম্প্রতি, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। ২০২০ সালে টিটাগড়ের বিজেপি কার্যালয়ের সামনে খুন করা হয় দলীয় নেতা মণীশ শুক্লাকে। তদন্তে উঠে আসে মণীশ শুক্লাকে বাইরে থেকে সুপারি কিলার এনে খুন করানো হয়েছে। সেই খুনের মামলা নিয়ে হঠাৎ সরব হন কৌস্তুভ বাগচী। তাঁর দাবি, মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হচ্ছেন। কিন্তু তার মধ্যে মণীশের খুনে যাঁদের নাম জড়িয়েছিল, তাঁরা এখন বিজেপিরই ছত্রছায়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন। নাম করেই তিনি পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিংকে নিশানা করেছেন। একই সঙ্গে প্রাক্তন দুই পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন কৌস্তুভ বাগচী।
সম্প্রতি, এক মঞ্চে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। উত্তম ও টিটাগড়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দিলে দলের রাজ্য দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বারাকপুরের তরুণ বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তমের বাড়িতে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে যান বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ। এরই মধ্যে কৌস্তভকে ঘিরে বিক্ষোভ হওয়ায় নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।




