স্পোর্টস ডেস্ক: সিনসিনাটির বিরুদ্ধে ২-২ ড্র ইন্টার মায়ামির। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরাল মেসির দল। তবে এই ড্রয়ের ফলে মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করার লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেল তাদের জন্য। ম্যাচে চারটি গোলই হল দ্বিতীয়ার্ধে। গোল করতে পারলেন না লিয়োনেল মেসি।
বুধবারের ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও জালের দেখা পায়নি কেউ। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বদলে যায় ছবিটা। ৬১ মিনিটে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন লুই সুয়ারেস। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে নিখুঁত শটে সিনসিনাটির গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করে মায়ামি। কিন্তু শেষ দিকে পর পর দু’টি গোল করে ম্যাচে ফিরে আসে সিনসিনাটি।
৮০ মিনিটে কেনজি এমবোমা ডেমের গোলে সমতা ফেরায় তারা। ছ’মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন স্যামুয়েল গিডি। আচমকা পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় মায়ামি। মনে হচ্ছিল, ঘরের মাঠে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে মেসিদের। সেই পরিস্থিতিতে ত্রাতা হয়ে ওঠেন পরিবর্ত হিসেবে নামা ব্রাজিলীয় ফুটবলার রিকেলমে ফিলিপি। ৮৩ মিনিটে মাঠে নামার পর ৯০ মিনিটে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান তিনি। বাঁ দিক থেকে আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে তাঁর নেওয়া শট জালে জড়িয়ে যায়।
ইন্টার মায়ামির হয়ে এটাই তাঁর প্রথম গোল। শেষ পর্যন্ত ২-২ ফলেই শেষ হয় ম্যাচ। তবে এই ড্রয়ে স্বস্তি পেলেও পয়েন্ট তালিকায় ধাক্কা খেল মায়ামি। অন্য ম্যাচে নিউ ইয়র্ক রেড বুলসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন। ৩২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৫৮। সমসংখ্যক ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে মায়ামি। শীর্ষে রয়েছে নাশভিল, ৩২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৭১ পয়েন্ট।
ইতিমধ্যেই ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থেকে সাপোর্টার্স শিল্ড নিশ্চিত করেছে নাশভিল। ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রথম এই সম্মান পেল তারা। মেজর লিগ সকারের নিয়ম অনুযায়ী, ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের প্রথম সাতটি করে দল নক-আউট পর্বে খেলবে। দুই কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা চারটি দল সরাসরি পরের পর্বে জায়গা পাবে। বাকিদের খেলতে হবে ওয়াইল্ড কার্ড রাউন্ড। তবে মায়ামির সামনে এখনও দ্বিতীয় স্থানে শেষ করার সুযোগ রয়েছে।
পরের ম্যাচেই নিউ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচ জিততে পারলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে মেসির দল। ফলে ওই ম্যাচ কার্যত তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। মায়ামির হয়ে গোল না পেলেও চলতি লিগে ২৫টি গোল করে সর্বাধিক গোলদাতার দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। মরসুমের শেষ পর্বে তাঁর দিকেই তাকিয়ে সমর্থকেরা। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে দিতে হলে পরের ম্যাচে মেসি ও তাঁর সতীর্থদের আরও কার্যকর ফুটবল খেলতে হবে।




