স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলবিশ্বে লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—সর্বকালের সেরা কে, সেই বিতর্কের যেন শেষ নেই। একদিকে মেসির অসাধারণ ড্রিবলিং, দৃষ্টিনন্দন পাস ও বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব, অন্যদিকে রোনালদোর গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা, শারীরিক দক্ষতা ও একের পর এক রেকর্ড। এবার সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করল ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ ভোটাভুটি। তবে এই লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন রোনালদো, আর তা ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
সর্বকালের সেরা কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো? এই প্রশ্ন রয়ে গেছে তর্কের টেবিলে। দুজনের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলকে নিয়ে গেছে অনন্য মাত্রায়। তাদের সঙ্গে আরও কয়েক কিংবদন্তিকে নিয়ে এবার ব্যালন ডি’অরের বিশেষ এক ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়েছিল। যেটি ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ (বোট)। জয়ী হলেন রোনালদো। তার ২০০৮ সালে জেতা ব্যালন ডি’অরটি মূলত ভোটে জিতেছে।
বুধবার রাতে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে রোনালদোকে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ভোট হয়েছে অর্থের বিনিময়ে, প্রতিটি ভোট দিতে খরচ করতে হয়েছে এক ইউরো। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এটা কোন অফিসিয়াল আওয়ার্ড নয়, এটির জন্য কোন পুরস্কার স্মারকও দেয়া হবে না।
মূলত সমর্থকরা পছন্দের খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ার নয় বরং তাদের নির্দিষ্ট ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমগুলোর একটিকে ভোট দিতে পেরেছেন এক ইউরো খরচ করে। এতে ব্যালন ডি’অরজয়ী ১০ কিংবদন্তির সেরা মৌসুম তুলে ধরা হয়েছিল। তালিকায় মেসি ও রোনালদো ছাড়াও ছিলেন রোনাল্ডো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো ডি স্টেফানো।
১০ জনের ৩২টি আলাদা মৌসুমের ব্যালন ডি’অর ক্যাটাগরি করা হয়েছিল। যার মধ্যে প্রথম ১২টি থাকল লিওনেল মেসি এবং রোনালদোর দখলে। পর্তুগিজ মহাতারকার ৫টি এবং আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়কের ৮টির মধ্যে ৭টি ছিল শীর্ষে। ১৫তম স্থানে আছেন ব্রাজিলের রোনাল্ডো।
মেসি ও রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে, তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। তবে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’-এর এই ফলাফলকে সর্বকালের সেরার চূড়ান্ত স্বীকৃতি বলা যায় না, কারণ ভোটটি ছিল সমর্থকদের পছন্দের নির্দিষ্ট ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমকে ঘিরে, যেখানে অংশ নিতে অর্থ খরচ করতে হয়েছে। তাই পরিসংখ্যান, ব্যক্তিগত কৃতিত্ব কিংবা সমর্থকদের আবেগ—যে মাপকাঠিতেই বিচার করা হোক না কেন, মেসি-রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ফুটবলবিশ্বে আরও বহুদিন আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।




