নিউজ ডেস্ক: বিখ্যাত ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকের দুর্যোধন এবং থিয়েটারে ‘মহিষাসুর’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত অভিনেতা পুনিত ইস্সার আন্তর্জাতিক প্রবীণ ভারতীয় অভিনেতা নাসীরুদ্দীন শাহর তীব্র সমালোচনা করেছেন। সংবাদ সংস্থা আইএএনএস (IANS)-এর সঙ্গে আলাপকালে পুনিত ইস্সার প্রবীণ তারকা নাসীরুদ্দীন শাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে "বাছাই করা সমালোচনা" বা “সিলেক্টিভ ক্রিটিসিস্ম” বলে অভিহিত করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে দেশের স্বার্থ বা কিছু সুনির্দিষ্ট জাতীয় ইস্যুতে কেন সবসময় নীরব থাকেন তিনি।
মূলত এই বাছাই করা সমালোচনার অভিযোগ ও বিতর্ক 'দিমাগী নকশাল'- এই ট্যাগকে ঘিরেই। পুনিত ইস্সার প্রবীণ অভিনেতা নাসীরুদ্দীন শাহকে তাঁর জ্যেষ্ঠ অভিনেতা এবং শিক্ষক হিসেবে সম্মান জানালেও তাঁর একতরফা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর বিরোধিতা করেন। মূলত নাসীরুদ্দীন শাহর একটি ফেসবুক ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে এই বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে শাহ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে নিজেকে একজন গর্বিত 'দিমাগী নকশাল' হিসেবে দাবি করেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া আচরণের জন্য সমালোচনা করেন মোদী সরকারের।
এর জবাবে পুনিত ইস্সার বলেন, “নাসীরুদ্দীন শাহ আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ ও অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন শিল্পী। কিন্তু আমার কথা, যেন সিলেক্টিভ বা বাছাই করা না হয় আপনার সমালোচনা। পক্ষ নিয়ে সর্বদা আপনি বামপন্থী বা নকশালি ভাবধারার পক্ষে, সব বিষয়ে সরব হন, কিন্তু দেশের ভিতরেই যখন দেশের টুকরে-টুকরে গ্যাং বা জেলবন্দি কোনো অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের মুক্তির দাবি তোলা হয়, তখন আপনি তাদের সমর্থনে চলে যান। সেই সময় নিজের দেশের স্বার্থে আপনার ভারতীয়ত্ব কোথায় থাকে? কেন তখন আপনি বোবার মতো ব্যবহার করেন?”
ইস্সার স্পষ্ট জানান যে, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী সরকারের সমালোচনা করার সম্পূর্ণ অধিকার নাসীরুদ্দীন শাহর রয়েছে। তবে তিনি পরামর্শ দেন, বর্তমান সরকারকে যদি তাঁর পছন্দ না হয়, তবে তাঁর উচিত সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে নামা। ইস্সারের বক্তব্য, "এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে,এই সরকার কারো খেয়াল খুশিতে তৈরি হয়নি। আপনার অন্যকোনো ভিন্ন আদর্শ থাকতেই পারে, বাইরে বসে কেবল একতরফা কথা বলা আসলে ভুল। তবে আপনার উচিত সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জনগণের সমর্থন বা ম্যান্ডেট নিয়ে জিতে এসে সরকার পরিবর্তন করার।
দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলনের সমর্থনে নাসীরুদ্দীন শাহ নিজের ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকার চাইছে। দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙতে এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে। তিনি জেএনইউ, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অর্থাৎ SRFTI এবং জামিয়া মিলিয়ার প্রসঙ্গ টেনে কবি আমির আজিজের কবিতা ধার করে বলেন, "শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া এই অত্যাচার সব মনে রাখা হবে অর্থাৎ সাব ইয়াদ রাখা যায়েগা”। নাসীরুদ্দীন শাহর এই 'দিমাগী নকশাল' মন্তব্য ও সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরই বলিউড মহলে এই নতুন রাজনৈতিক ও আদর্শগত বিতর্ক চরম রূপ নিয়েছে।




