নিউজ ডেস্ক: ব্যাঙ্কে রাখা গ্রাহকের কষ্টার্জিত আমানতের সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায়। সেখানকার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের একটি শাখা থেকে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো, যাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরানো হয়েছে, তাঁদের কাছে লেনদেন সংক্রান্ত কোনও সাধারণ মেসেজ বা ওটিপি পর্যন্ত আসেনি। এমনকি টাকা তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও নথিতে গ্রাহকদের স্বাক্ষর পর্যন্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থ ছাড়াও তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত ভেঙে কিংবা সেখান থেকে অর্থ বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্কের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও ধরনের লেনদেন তা সামান্য টাকাই হোক বা কোটি টাকা হলেই সঙ্গে সঙ্গে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে এসএমএস বা অ্যালার্ট পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে দফায় দফায় টাকা অন্য খাতে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও গ্রাহকদের ফোনে কোনও অ্যালার্ট পৌঁছায়নি। ফলে ঠিক কী কৌশলে সিস্টেমের নজর এড়িয়ে এবং অ্যালার্ট ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা সরানো হলো, তা নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
https://www.facebook.com/share/1JvYRR5oaD/
বেশ কয়েকজন গ্রাহক নিজেদের পাসবই আপডেট করতে কিংবা ফিক্সড ডিপোজিটের স্টেটাস খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রথম এই অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন।
চোখের নিমেষে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যাওয়ার বিষয়টি টের পেতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের। তড়িঘড়ি তাঁরা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা। অনেকেই ব্যাঙ্কের অন্দরের কোনও যোগসাজশ বা অভ্যন্তরীণ কর্মীদের হাত থাকার অভিযোগ তুলছেন, কারণ ব্যাঙ্কের ভেতরের সাহায্য ছাড়া নিরাপত্তা ও নথি যাচাইয়ের নিয়ম এড়িয়ে এমন বড় ধরনের তহবিল লোপাট করা কার্যত অসম্ভব।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওই শাখায় নিজেদের জমানো টাকার হিসেব মেলাতে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন পড়তে শুরু করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ব্যাঙ্কের সার্ভার লগ ও অভ্যন্তরীণ লেনদেনের রেকর্ড, যাতে স্পষ্ট হয় কার বা কাদের নির্দেশ ও হস্তক্ষেপে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে।




