নিউজ ডেস্ক : রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটেছে। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব সামলে বিমানকে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ তখনও শেষ হয়নি পাইলটদের। যাত্রীদের কাছে এই সময়টা হয়তো যাত্রার শেষ পর্যায়, কিন্তু ককপিটে থাকা চালকের কাছে সেটাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের নজরে এবার উঠে এসেছে এমনই এক বিষয়, যা নতুন করে ভাবাচ্ছে বিমান পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে।
সূত্রে খবর, অলাভজনক বিমান নিরাপত্তা সংস্থা সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশনের একটি পর্যালোচনায় দাবি করা হয়েছে, ভারতে প্রতি ১০০ জন পাইলট এর মধ্যে প্রায় ৬৩ জন রাতের সর্বোচ্চ আইনসিদ্ধ দশ ঘন্টা ডিউটি শেষে ভোরে বিমান অবতরণের সময় ঘুমঘুম ভাব অনুভব করতে পারেন। এই পরিসংখ্যান বিমান অবতরণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পর্যালোচনায় ভারত ও ইউরোপের পরিস্থিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইউরোপের প্রতি ১০০ জন পাইলট এর মধ্যে ১৬ জনের ক্ষেত্রে ভোরের অবতরণের সময় ঘুম ঘুম ভাব থাকার আশঙ্কা উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাটি প্রায় ৬৩। অর্থাৎ সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী ইউরোপের তুলনায় ভারতের এই সমস্যার সম্ভাব্য হার অনেকটাই বেশি।
বিমান অবতরণের সময় পাইলটকে রানওয়ের পরিস্থিতি, আবহাওয়া, বিমানের গতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই পর্যায়ে মনোযোগের সামান্য ঘাটতিও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দীর্ঘক্ষণ কাজ করা, রাতের ডিউটি এবং শরীরে স্বাভাবিক ঘুমের সময়ের সঙ্গে কাজের সময়ের সংঘাত ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে।
রাতের ডিউটির সর্বোচ্চ সময় আইন মেনে নির্ধারিত থাকলেও সেই সময়সীমার মধ্যে কাজ করলেই প্রত্যেক পাইলট সমানভাবে সতর্ক থাকবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই ডিউটির সময়সীমার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ঘুমের মান এবং ভোরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাইলটদের সতর্কতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে, এই পরিসংখ্যানকে সমস্ত ভারতীয় পাইলটের বাস্তব অবস্থা বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এটি একটি পর্যালোচনায় উঠে আসা সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব। বিমান নিরাপত্তার স্বার্থে এই উদ্বেগের কারণ ও সমাধান নিয়ে আরও বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।




