নিউজ ডেস্ক: ভালোবাসার জন্য ত্যাগ, নাকি ত্যাগের দায়িত্ব শুধুই নারীর? করবা চৌথের মতো জনপ্রিয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবকে ঘিরে এবার উঠল এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। স্বামীর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলকামনায় স্ত্রীদের দিনভর উপোস থাকার প্রথা নিয়ে সরব হয়েছেন মনোবিদ দিবিজা ভাসিন। স্ত্রী যখন স্বামীর জন্য খাবার ও জল ছাড়া দিন কাটাচ্ছেন, তখন স্বামী যদি নিজের মতো খাওয়াদাওয়া করেন এবং স্ত্রীর কষ্টের প্রতি উদাসীন থাকেন, সেই আচরণকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
মনোবিদের বক্তব্যের মূল সুর, দাম্পত্য সম্পর্কে ভালোবাসা, যত্ন ও ত্যাগ যদি দু’জনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার বিষয় হয়, তাহলে সেই দায়িত্ব একতরফা হবে কেন? তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রসঙ্গ। অর্থাৎ, সংসারের সুখ, স্বামীর মঙ্গল কিংবা পরিবারের ভালো থাকার জন্য ত্যাগের প্রত্যাশা কেন বারবার নারীর কাছেই করা হবে?
করবা চৌথ উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের বহু পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পর বিশেষ আচার মেনে উপবাস ভাঙেন তাঁরা। অনেক দম্পতির কাছে এই উৎসব ভালোবাসা, বিশ্বাস ও একে অপরের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথা নিয়ে বদলাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গিও। অনেক দম্পতি এখন একসঙ্গে উপবাস করেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের পছন্দ ও বিশ্বাস অনুযায়ী উৎসব পালন করেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনও রীতি পালন করতে গিয়ে নারীর উপর সামাজিক প্রত্যাশা বা মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে কি না।
এখানেই সামনে আসছে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও লিঙ্গসমতার প্রসঙ্গ। কেউ স্বেচ্ছায় উপবাস পালন করলে তা তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দিনের শেষে, দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, যত্ন ও বোঝাপড়া।
ভালোবাসার প্রকাশ কি শুধু উপবাসেই সীমাবদ্ধ, নাকি প্রতিদিনের ছোট ছোট দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেও তার পরিচয় মেলে? করবা চৌথকে ঘিরে বিতর্ক সেই আলোচনাকেই আবার সামনে নিয়ে এল।




