নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে দূষণ ও বাজির দাপট রুখতে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী সংলগ্ন এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, আতসবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী আদালত নয়। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিচারপতিদের মন্তব্য, নির্দেশ যদি মাঠপর্যায়ে রূপায়িতই না হয়, তবে প্রতি বছর শুধু আদালতের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারির কোনও মানে থাকে না। তা নিছক অর্থহীন বা তামাশায় পরিণত হয়।
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ এদিন প্রশাসনকে সজাগ হওয়ার কড়া বার্তা দেয়। আদালত মনে করিয়ে দেয়, দূষণের বিষয়টি কেবল উৎসবের সঙ্গে জড়িত নয়, প্রতিটি জীবিত প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত।
বিচারপতিরা বলেন, সাধারণ মানুষের আবেগ ও উৎসবের আনন্দকে সম্মান জানানো হচ্ছে বলেই পুরোপুরি বাজি বন্ধের পথে যাওয়া হচ্ছে না। কিন্তু প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ যদি সচেতনভাবে নিয়ম না মানে, তবে বাধ্য হয়েই চরম সিদ্ধান্ত বা কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের এগিয়ে নিয়ে আসারও পরামর্শ দেয় শীর্ষ আদালত।
আদালতের সহায়তাকারী আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, বাজারে আদৌ আসল ‘সবুজ বাজি’ বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের মতো কার্যকর কোনও পরিকাঠামো এখনও নেই। এর ফলে গত বছরও সবুজ বাজির মোড়কে দেদার নিষিদ্ধ ও দূষণকারী বাজি পোড়ানো হয়েছিল। এমনকি গত দশেরাতেও বাজির দৌলতে রাজধানীর বায়ুমান সূচক বা একিউআই উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে আবেদনকারীদের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন দাবি করেন, আদালতের জারি করা নিয়ম বারবার ভাঙা হচ্ছে, তাই আতসবাজি তৈরির উপরই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।
সরকারের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি আদালতের কাছে জানান, দিল্লির সরকার ও বায়ুমান পরিচালন কমিশন দূষণ রুখতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নভেম্বর মাস থেকেই পুরনো গাড়ি চলাচলে রাশ টানা, নির্মাণ কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজের সময় পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাজিতে বেরিয়াম রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চলছে বলেও জানানো হয় এবং তার জন্য কেন্দ্রের তরফ থেকে তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। আদালত সেই সময় মঞ্জুর করেছে।
সব মিলিয়ে আদালতের স্পষ্ট বার্তা, মাঝের পথ হিসেবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে বা দূষণ কম ছড়ায় এমন আধুনিক ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ব্যবহারের পথ খোলা থাকলেও, নজরদারি জোরদার না করলে দিল্লির দমবন্ধ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব নয়। নির্দেশ কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সরাসরি রাস্তায় নেমে তদারকির নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।




