নিউজ ডেস্ক : বাইরে থেকে ঝকঝকে বিলাসবহুল গাড়ি, দেখে সন্দেহ হওয়ার কথা নয় কারও। রাস্তায় এমন গাড়ি চলাচল করলেও সাধারণত নজর কাড়ার মত কিছু থাকে না। কিন্তু, সেই গাড়ির ভিতরেই যদি লুকিয়ে থাকে অন্য কোনও কারবারের রহস্য? পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর কৌশলের কথা। যে পদ্ধতিতে সাধারণ গাড়িকেই ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ, আর সেই সূত্র ধরেই সামনে এল একাধিক ব্যক্তির যোগসাজস।
গবাদি পশু চুরি করে তা অন্য রাজ্যে পাচারের অভিযোগে একটি আন্ত:রাজ্য চক্রের হদিস পেল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় মূল পান্ডা সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি আটক করা হয়েছে সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযানের বিস্তারিত জানান পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খন্ড থেকে পুরুলিয়ায় এসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করত চক্রের সদস্যরা। রাস্তার ধারে থাকা গবাদি পশু চুরি করে সেগুলিকে গাড়িতে তোলা হতো বলে অভিযোগ। এরপর সেগুলিকে নিয়ে ভিন রাজ্যে চলে যেত অভিযুক্তরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রতিটি গাড়িতে চার থেকে পাঁচটি করে গরু নিয়ে যাওয়া হতো।
তদন্তকারীদের দাবি, পাচারের জন্য গাড়ি গুলিকে বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। চালকের আসন-সহ সামনের অংশ ঠিক রেখে পিছনের বসার আসন গুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গায় গবাদি পশু তোলা হতো বলে অভিযোগ। ফলে, বাইরে থেকে গাড়িগুলিকে সাধারণ বিলাসবহুল যান বলেই মনে করা হতো। এই কৌশল ব্যবহার করে পুলিশের নজর এড়ানো হচ্ছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে ৬ জন ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা-খারসাওয়ান জেলার কাপালি এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ কবিরকে এই চক্রের মূল পান্ডা বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পুরুলিয়া শহরের কসাই মহল্লার বাসিন্দা মহম্মদ আনোয়ার এর নাম ও সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি গবাদি পশু চুরির ঘটনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কোথায় কোথায় গবাদি পশু পাচার করা হতো এবং এর পিছনে আরও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সাতটি গাড়ি আটক, এবং সাতজনের গ্রেফতারির পর এই পাচারচক্রের বিস্তারিত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশায় রয়েছে পুলিশ।




