নিউজ ডেস্ক: এআই গবেষণায় বড় পদক্ষেপ! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে পদার্থবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জীববিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করে গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলতে উদ্যোগী IIT খড়্গপুর। এই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানে তৈরি হতে চলেছে ‘বেঞ্জামিন গুপ্তা স্কুল অফ ফিজিক্যাল এআই’। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এই প্রকল্পে আইআইটি খড়গপুর তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সমাজসেবী বিনোদ গুপ্ত এবং ‘আইআইটিকেজিপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ’ -এর সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে।বিনোদ গুপ্তর পরিবার দিচ্ছে ১২.৫ কোটি টাকা। আরও ১০ কোটি টাকা দিচ্ছেন এক প্রাক্তনী। বাকি ১২.৫ কোটি টাকা দেবে আইআইটি খড়্গপুর। প্রয়াত পুত্র বেঞ্জামিন গুপ্তের স্মৃতিতে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই স্কুলে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ এডুকেশন এবং বিভিন্ন পেশাগত সার্টিফিকেশন কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এখানে শিক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। এর ফলে AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে পড়ুয়া, গবেষক এবং কর্মরত পেশাদারদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফিজিক্যাল এআই কী?
সাধারণভাবে AI বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়, যার সাহায্যে কম্পিউটার তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। অন্যদিকে, ফিজিক্যাল এআই-এর লক্ষ্য হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বাস্তব জগতের ভৌত প্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। পদার্থবিদ্যা ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীতিকে কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজা সম্ভব। জীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও এই ধরনের গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে।
IIT খড়্গপুরের এই উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পক্ষেত্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থা এবং স্টার্টআপগুলিকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় AI-এর ব্যবহার এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।




