নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ঘট স্থাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজো—বিভিন্ন পুজোয় ঘটের ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষ করে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় দেবীর আরাধনার আগে ঘট সাজিয়ে স্থাপন করেন বহু ভক্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘট শুভশক্তি, পূর্ণতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী ঘট স্থাপনের নিয়মে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
কীভাবে করা হয় ঘট স্থাপন?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, প্রথমে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে সেখানে একটি কাঠের পিঁড়ি বা উপযুক্ত আসন সাজানো হয়। এরপর পরিষ্কার মাটির, পিতলের বা তামার ঘট নেওয়া হয়। ঘটের গায়ে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকার রীতিও রয়েছে অনেক পরিবারে। ঘটের ভিতরে পরিষ্কার জল ভরা হয়। পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী, সেই জলে আতপ চাল, দূর্বা, ফুল, সুপারি কিংবা একটি মুদ্রা দেওয়া হতে পারে।
এরপর ঘটের মুখে আমপাতা সাজিয়ে তার উপরে ডাব বা নারকেল রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘটের গলায় পবিত্র সুতো বাঁধা হয়। ঘটের সামনে ফুল, ধূপ, প্রদীপ ও নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবী লক্ষ্মীর পুজো শুরু করা হয়। তবে বাঙালির কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় অনেক বাড়িতে ঘটের পাশাপাশি লক্ষ্মীর সরা বা প্রতিমা স্থাপন করে পুজো করার রীতিও প্রচলিত।
ঘটের ধর্মীয় তাৎপর্য কী?
হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে পূর্ণজলভরা ঘটকে ‘পূর্ণকুম্ভ’ বা ‘পূর্ণঘট’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এটি পূর্ণতা, মঙ্গল ও জীবনের উৎসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ঘটের জলকে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আমপাতা ও নারকেল দিয়ে ঘট সাজানোও বহু হিন্দু পুজোর পরিচিত রীতি। লক্ষ্মীপুজোয় ঘট স্থাপনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরিবারে সুখ, শান্তি, অন্ন ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রথা?
ঘট স্থাপন শুধু পুজোর সাজসজ্জার অংশ নয়, বরং ভক্তি ও মঙ্গলকামনার একটি প্রতীকী প্রকাশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি বাঙালির ধর্মীয় ও পারিবারিক সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তবে ঘট স্থাপনের উপকরণ, মন্ত্র এবং পদ্ধতি সর্বত্র এক নয়। তাই নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় বিধি অনুসরণ করতে চাইলে নিজের পারিবারিক পঞ্জিকা বা পুরোহিতের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।




